ঢাকা, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

২১ ফাল্গুন ১৪৩২, ১৫ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম

Scroll
অতিরিক্ত ভাড়া নিলে ব্যবস্থা, নিরাপদ ঈদযাত্রায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের
Scroll
ইরান ও উপসাগরজুড়ে নতুন হামলা, আরও বিস্তৃত হচ্ছে যুদ্ধ
Scroll
স্বাস্থ্যখাতে ধাপে ধাপে এক লাখ জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
Scroll
জাকজমকপূর্ণ ইফতার মাহফিল এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
Scroll
বিদেশে যাওয়া-আসার সময় রাষ্ট্রাচার সীমিত করলেন প্রধানমন্ত্রী
Scroll
মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া
Scroll
আদিবাসী অঞ্চলের পাখিরা ৮০ বছরে আয়তনে ৭২% পর্যন্ত ছোট হয়ে গেছে
Scroll
দক্ষ জনশক্তি গড়তে ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
Scroll
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে আশাবাদী ঢাকা-দিল্লি
Scroll
সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে এই সরকার বিচক্ষণ পদক্ষেপ নেবে: জিইডি
Scroll
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
Scroll
২০২৬ সালে চীনের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের বেশি হবে না
Scroll
মার্চ ৭ তারিখ পর্যন্ত দুবাইয়ের সকল ফ্লাইট স্থগিত করল এমিরেটস
Scroll
চলতি কর বছরে ৪০ লক্ষাধিক করদাতার ই-রিটার্ন দাখিল
Scroll
’ভাড়াটে সৈন্য’ হিসেবে রাশিয়ার পক্ষে লড়ছে বাংলাদেশি তরুণেরা
Scroll
পত্রিকা: ’গ্যাস সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের শরণাপন্ন বাংলাদেশ’
Scroll
১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
Scroll
চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করে আইনের আওতায় আনা হবে
Scroll
জ্বালানি চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চায় বাংলাদেশ: জ্বালানি মন্ত্রী
Scroll
২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি ১৫% উন্নীতের লক্ষ্য নির্ধারণ সরকারের

আদিবাসী অঞ্চলের পাখিরা ৮০ বছরে আয়তনে ৭২% পর্যন্ত ছোট হয়ে গেছে

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮:২৪, ৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৮:২৯, ৫ মার্চ ২০২৬

আদিবাসী অঞ্চলের পাখিরা ৮০ বছরে আয়তনে ৭২% পর্যন্ত ছোট হয়ে গেছে

ছবি: এল পাইজ (চিলি) পত্রিকার সৌজন্যে।

লাতিন আমেরিকা, এশিয়া এবং আফ্রিকার ১০টি স্থানীয় সম্প্রদায়ের সম্মিলিত জৈব-সাংস্কৃতিক স্মৃতির ওপর ভিত্তি করে করা একটি বৈশ্বিক গবেষণা জীববৈচিত্র্যের এই চলমান হ্রাসের পরিবেশগত এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছে, খবর চিলির এল পাইজ পত্রিকার

বলিভিয়ার আমাজন রেইনফরেস্টের গভীরে সিমানে সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে। প্রায় ১৬,০০০ মানুষের এই সম্প্রদায়টি শতাব্দীকাল ধরে সিমানে আদিবাসী অঞ্চল এবং পিলন লাজাস এলাকা রক্ষা করে আসছে। যখন এই সম্প্রদায়ের প্রবীণরা শিশু ছিলেন, তারা মানিকি নদী অববাহিকার ওপর দিয়ে ম্যাকাও এবং আমাজনীয় গুয়ান পাখি উড়ে যেতে দেখতেন। আজ তারা নিজেরাই স্বীকার করেন যে, সেখানে এখন কেবল রুডি কবুতর এবং জায়ান্ট কাউবার্ড দেখা যায়—যেসব পাখি অনেক বেশি সাধারণ ও শহুরে এবং তাদের অঞ্চলের আদি প্রকৃতির সাথে যাদের খুব একটা সম্পর্ক নেই।

এই উপলব্ধি কেবল বলিভিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বার্সেলোনার স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা সমন্বিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১৯৪০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে তিনটি মহাদেশের ১০টি আদিবাসী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের পাখিদের গড় শারীরিক ভর ৭২% পর্যন্ত কমে গেছে।

পনেরো বছর আগে আলভারো ফার্নান্দেজ-লামাজারেস এই সম্প্রদায়ের সাথে থেকে তার পিএইচডির কাজ করেছিলেন। সেখানে তিনি বারবার প্রবীণদের আক্ষেপ শুনতে পান যে, তারা শৈশবে যেসব পাখি দেখেছিলেন সেগুলো এখন আর দেখতে পান না। ওরিক্স জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার প্রধান লেখক এবং স্প্যানিশ নৃ-জীববিজ্ঞানী আলভারো ব্যাখ্যা করেন যে, এই ক্ষতি তাদের কাছে কেবল একটি সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি গভীর।

সাক্ষাৎকার দেওয়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছে পাখিদের প্রায়শই অপরিসীম প্রতীকী এবং আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব রয়েছে। তাই জীববৈচিত্র্যের এই হ্রাসের ফলে আনুষ্ঠানিক নৃত্য, গান এবং জায়গার নামগুলোও হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে পিএইচডি করা ইয়োলান্ডা লোপেজ মালডোনাডো তার শৈশবের ভিডিওগুলো খুব যত্ন সহকারে আগলে রেখেছেন, যেখানে তাকে ঐতিহ্যবাহী মায়ান নৃত্যের অংশ হিসেবে থিক-নি পাখির মিলনের আচার অনুকরণ করতে দেখা যায়। সেখানে একটি ছোট মেয়ে তার স্কার্ট এমনভাবে নাড়ায় যেন সেখান থেকে পালক ঝুলছে এবং তার সঙ্গীর সাথে মুখে ঠোকর দেওয়ার অভিনয় করে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যদি এই পাখিটি অদৃশ্য হয়ে যায়, তবে আমাদের সংস্কৃতিও একভাবে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। এই পাখিদের যদি আর দেখা না যায়, তবে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়া একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ।

এই গবেষণাটি লাতিন আমেরিকা, এশিয়া এবং আফ্রিকায় ছড়িয়ে থাকা ১,৪৩৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পরিবেশগত স্মৃতির একটি অনন্য দলিল। অংশগ্রহণকারীরা তাদের শৈশবে দেখা সবচেয়ে সাধারণ তিনটি পাখির প্রজাতি এবং বর্তমানে দেখা সবচেয়ে সাধারণ তিনটি প্রজাতির কথা স্মরণ করেছেন। গবেষক দলটি ২৮৩টি প্রজাতির পাখিদের ৬,৯১৪টি অনন্য দর্শনের তথ্য সংগ্রহ করেছেন, যা ৪০টিরও বেশি স্থানে একই ঘটনার তুলনা করার সুযোগ করে দিয়েছে। গবেষণাটি একটি যন্ত্রণাদায়ক বাস্তবতাকে সামনে এনেছে: আমাদের প্রজন্ম ত্বরান্বিত বিলুপ্তি প্রত্যক্ষ করছে। ১৯৪০-এর দশকে যেখানে দেখা মেলা পাখিদের গড় ওজন ছিল ১,৫০০ গ্রামের বেশি, ২০২০-এর দশকে সেই গড় নেমে এসেছে প্রায় ৫৩৫ গ্রামে।
মেক্সিকো, ব্রাজিল, বলিভিয়া, চিলি, সেনেগাল, ঘানা, কেনিয়া, মাদাগাস্কার, মঙ্গোলিয়া এবং চীন—এই ১০টি দেশে পাঁচ বছর ধরে চলা একটি যৌথ অনুসন্ধানের প্রথম ধাপ ছিল সিমানে সম্প্রদায়। এই গবেষণাটি প্রকাশ করেছে যে, কেবল তারাই তাদের অঞ্চলের বিশাল এবং রাজকীয় পাখিদের হারানোর শোকে মূহ্যমান নয়।

যদিও এই গবেষণার মূল লক্ষ্য কারণগুলো অনুসন্ধান করা ছিল না, তবুও ফার্নান্দেজ-লামাজারেস জলবায়ু সংকট, বন্যপ্রাণী পাচার এবং বন উজাড়কে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আজ আমরা যেসব প্রজাতি দেখছি, তারা মানুষের সৃষ্ট প্রতিকূলতার সাথে মানিয়ে নিতে বেশি পারদর্শী এবং শহুরে পরিবেশে ভালোভাবে টিকে থাকে। আমরা জীববৈচিত্র্যের একজাতীয়করণ (homogenization) প্রত্যক্ষ করছি, যার ফলে এই পাখিদের পরিবেশগত এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব হারিয়ে যাচ্ছে।"

অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য এই গবেষণার গুরুত্ব কেবল এর ফলাফল বা জীববৈচিত্র্যের একজাতীয়করণের প্রমাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর অন্যতম বৈপ্লবিক দিক হলো, এটি এমন কিছু জ্ঞানপদ্ধতিকে কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে, যা আগে পশ্চিমা বিজ্ঞানে বৈধ বলে গণ্য করা হতো না। লোপেজ মালডোনাডো উল্লেখ করেন, "এটি প্রমাণ করে যে এই জ্ঞানপদ্ধতিও জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।"

স্প্যানিশ এই বিজ্ঞানী আরও যোগ করেন যে, বিজ্ঞানে এখনও পরিবেশগত স্মৃতির ততটা জায়গা নেই "যতটা থাকা উচিত", তবে ধীরে ধীরে এর মৌলিক গুরুত্ব স্বীকৃত হচ্ছে। তিনি উপসংহারে বলেন, "প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জ্ঞান এবং নিরন্তর পর্যবেক্ষণের কারণে এই স্মৃতির নির্ভুলতা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।" প্রধান লেখক ব্যাখ্যা করেন যে, এই জ্ঞানকে কেবল সম্পূরক তথ্য হিসেবে দেখার পরিবর্তে, তারা বৈজ্ঞানিক এবং আদিবাসী জ্ঞানপদ্ধতির মধ্যে একটি সম্মানজনক এবং ন্যায়সঙ্গত সংলাপের পক্ষে কথা বলছেন। তারা মনে করেন, এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নীতিকে শক্তিশালী করার সম্ভাবনা রাখে। একমাত্র যখন থিক-নি পাখিরা আবারও দক্ষিণ মেক্সিকোর আকাশ ভরিয়ে তুলবে, তখনই লোপেজ মালডোনাডোর সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী নাচ অব্যাহত রাখতে পারবে।

আরও পড়ুন