শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩:৩১, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ছবি: সংগৃহীত।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বুধবার জানিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা সত্ত্বেও জাপান চীনের সাথে সংলাপের মাধ্যমে একটি গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।
একটি বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি চীনকে জাপানের একটি "গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী" হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চীনের সাথে গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে আমার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।" তিনি আরও যোগ করেন যে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য জাপানের আলোচনার দরজা সব সময়ই খোলা রয়েছে।
উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
গত ২১ অক্টোবর জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সানায়ে তাকাইচি, যিনি মূলত তার কড়া নিরাপত্তা নীতির জন্য পরিচিত। গত ৭ নভেম্বর তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, তাইওয়ানের ওপর কোনো আক্রমণ জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে এবং এর জবাবে জাপানি আত্মরক্ষা বাহিনী (SDF) পদক্ষেপ নিতে পারে।
তার এই মন্তব্যের পর চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। জাপান ভ্রমণের ওপর তারা বিশেষ সতর্কতা জারি করে। আর, জাপানি সামুদ্রিক খাবার আমদানির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
ওকিনাওয়া দ্বীপের কাছে জাপানি যুদ্ধবিমানের ওপর চীনা ফাইটার জেটের রাডার লক করার মতো সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করে।
পূর্ববর্তী অবস্থানের সাথে সামঞ্জস্য
তাকাইচি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, তাইওয়ান সংক্রান্ত তার মন্তব্য জাপানের পূর্ববর্তী সরকারগুলোর অবস্থানের বাইরে কিছু নয়। তিনি বলেন, জাপান এই বিষয়টি নিয়ে চীন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে নিরন্তর আলোচনা চালিয়ে যাবে। উল্লেখ্য যে, তার পূর্বসূরিরা সাধারণত এ ধরনের স্পর্শকাতর সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা এড়িয়ে চলতেন।
অন্যান্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আরও জানান যে:
তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে যত দ্রুত সম্ভব দ্বিতীয়বারের মতো সশরীরে বৈঠকে বসতে আগ্রহী।
দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে দ্বিপাক্ষিক সফরের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
গত অক্টোবরেই তিনি ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং-এর সাথে আলাদা আলাদা বৈঠক করেছেন।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তাকাইচি প্রশাসনের বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
সংসদীয় জটিলতা ও জোট সরকার
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি অভ্যন্তরীণভাবে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। তার দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (LDP) এবং তাদের সহযোগী দল জাপান ইনোভেশন পার্টি (JIP)-এর জোট বর্তমানে জাপানের সংসদের উচ্চকক্ষ (House of Councillors)-এ সংখ্যালঘু অবস্থায় আছে। অন্যদিকে, নিম্নকক্ষে (House of Representatives) তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও তা খুবই সামান্য।
আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা
বিভিন্ন মিডিয়া জরিপে দেখা গেছে যে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাকাইচি ক্যাবিনেটের জনপ্রিয়তা বেশ উঁচুতে রয়েছে। এই সুযোগে নিম্নকক্ষ ভেঙে দিয়ে একটি আগাম সাধারণ নির্বাচন (Snap Election) দিলে ক্ষমতাসীন জোটের জন্য বড় ব্যবধানে জয়ী হওয়ার এবং নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো।
বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তবে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি স্পষ্ট করেছেন যে:
তিনি আপাতত নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার বা আগাম নির্বাচনের কথা ভাবছেন না। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এ নিয়ে ভাবার "সময় তার নেই"।
জাপান ইনোভেশন পার্টি (নিপ্পন ইশিন)-এর সাথে জোট বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, গত ২০ অক্টোবর এই দুই দল একটি জোট চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল, যার ফলেই তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হতে সক্ষম হন।
জাপানের এই বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ বা জোট সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার কি আর কোনো প্রশ্ন আছে? আমি এ বিষয়ে আরও তথ্য দিতে পারি।
লাদা আলাদা বৈঠক করেছেন।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তাকাইচি প্রশাসনের বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
সংসদীয় জটিলতা ও জোট সরকার
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি অভ্যন্তরীণভাবে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। তার দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (LDP) এবং তাদের সহযোগী দল জাপান ইনোভেশন পার্টি (JIP)-এর জোট বর্তমানে জাপানের সংসদের উচ্চকক্ষ (House of Councillors)-এ সংখ্যালঘু অবস্থায় আছে। অন্যদিকে, নিম্নকক্ষে (House of Representatives) তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও তা খুবই সামান্য।
আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা
বিভিন্ন মিডিয়া জরিপে দেখা গেছে যে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাকাইচি ক্যাবিনেটের জনপ্রিয়তা বেশ উঁচুতে রয়েছে। এই সুযোগে নিম্নকক্ষ ভেঙে দিয়ে একটি আগাম সাধারণ নির্বাচন (Snap Election) দিলে ক্ষমতাসীন জোটের জন্য বড় ব্যবধানে জয়ী হওয়ার এবং নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো।
বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তবে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি স্পষ্ট করেছেন যে:
তিনি আপাতত নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার বা আগাম নির্বাচনের কথা ভাবছেন না। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এ নিয়ে ভাবার "সময় তার নেই"।
জাপান ইনোভেশন পার্টি (নিপ্পন ইশিন)-এর সাথে জোট বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, গত ২০ অক্টোবর এই দুই দল একটি জোট চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল, যার ফলেই তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হতে সক্ষম হন।
জাপানের এই বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ বা জোট সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার কি আর কোনো প্রশ্ন আছে? আমি এ বিষয়ে আরও তথ্য দিতে পারি।