শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮:৫৬, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ০৮:৫৭, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
জাপান তার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিচ্ছে। ২০২২ সালে গৃহীত বর্তমান নিরাপত্তা কৌশল অনুযায়ী, জাপান চীনকে তাদের সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নিরাপত্তা চুক্তির অধীনে জাপানের 'সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স' (SDF) এখন আরও আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মূল সামরিক আপডেটসমূহ:
টাইপ-১২ মিসাইল: জাপান ১৭৭ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৯৬০.২ মিলিয়ন ইউরো) ব্যয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এবং উন্নত মানের টাইপ-১২ সারফেস-টু-শিপ মিসাইল কেনার পরিকল্পনা করেছে। এই মিসাইলগুলোর পাল্লা বা রেঞ্জ প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার, খবর ইউরো নিউজের।
দ্রুত মোতায়েন: নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই আগামী মার্চের মধ্যে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কুমামোটো প্রিফেকচারে এই মিসাইলগুলোর প্রথম ব্যাচ মোতায়েন করা হবে।
চালানো হবে ড্রোন (SHIELD সিস্টেম): জাপানের জনসংখ্যা হ্রাস এবং সামরিক বাহিনীতে লোকবল সংকটের কারণে সরকার চালকবিহীন বা ড্রোন প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে।
উপকূলীয় প্রতিরক্ষার জন্য ১০০ বিলিয়ন ইয়েন ব্যয়ে আকাশ, সমুদ্রপৃষ্ঠ এবং পানির নিচে নজরদারি ও প্রতিরক্ষার জন্য "SHIELD" নামক একটি সিস্টেম ২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুরুতে এই ড্রোনগুলো তুরস্ক বা ইসরায়েল থেকে আমদানি করা হতে পারে।
চীনের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা:
সাম্প্রতিক সময়ে চীনের সাথে জাপানের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বেড়েছে:
রাডার লক: সম্প্রতি দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের কাছে চীনের বিমানবাহী রণতরীর মহড়ার সময় জাপানি বিমানের ওপর চীন তাদের রাডার 'লক' করে। একে মিসাইল ছোড়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে গণ্য করা হয়, যার ফলে টোকিও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় নজরদারি: প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের দ্রুত বিস্তার নিয়ে জাপান উদ্বিগ্ন। এ কারণে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় চীনের প্রশান্ত মহাসাগরীয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও কৌশল নিয়ে গবেষণার জন্য একটি নতুন বিশেষায়িত অফিস খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জাপানের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি এবং চীনের প্রতিক্রিয়া
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জাপানের জলসীমার কাছে চীনের সামরিক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা টোকিওকে গভীরভাবে চিন্তিত করে তুলেছে।
প্রশান্ত মহাসাগরে উত্তেজনার নতুন মাত্রা
দুটি বিমানবাহী রণতরী: গত জুন মাসে প্রথমবারের মতো জাপানের দক্ষিণ দ্বীপ ইও জিমা (Iwo Jima) এর কাছে চীনের দুটি বিমানবাহী রণতরীকে একসাথে মহড়া দিতে দেখা গেছে। বিতর্কিত পূর্ব চীন সাগর ছাড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে চীনের এই শক্তিশালী উপস্থিতি জাপানের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনের পাল্টা বক্তব্য: চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান তাকাইচি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জাপানের সামরিক শক্তিবৃদ্ধির গতি অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। তার মতে, জাপান তাদের দীর্ঘদিনের "শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথ" থেকে বিচ্যুত হয়ে এক বিপজ্জনক পথে পা বাড়াচ্ছে।
যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্প: যুদ্ধবিমান ও ফ্রিগেট
জাপান এখন শুধু আমদানির ওপর নির্ভর না করে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সাথে যৌথভাবে উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র তৈরিতে জোর দিচ্ছে:
পরবর্তী প্রজন্মের ফাইটার জেট: ২০৩৫ সালের মধ্যে মোতায়েনের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য এবং ইতালির সাথে যৌথভাবে একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য জাপান ১৬০ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৮৬৭ মিলিয়ন ইউরো) বরাদ্দ করেছে।
AI চালিত ড্রোন: এই নতুন যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি কাজ করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত ড্রোন তৈরির গবেষণাও চলছে।
অস্ট্রেলিয়ার সাথে চুক্তি: জাপানি প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য একটি বড় সাফল্য হলো অস্ট্রেলিয়ার সাথে চুক্তি। অস্ট্রেলিয়ার ১১টি পুরোনো 'ANZAC-class' জাহাজ প্রতিস্থাপনের জন্য মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজকে তাদের 'Mogami-class' ফ্রিগেট আপগ্রেড করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।