শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮:৫৭, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত।
সম্প্রতি প্রকাশিত বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ের সর্বশেষ একটি প্রতিবেদন শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে (Chinese Universities Surge in Global Rankings as U.S. Schools Slip) উঠে এসেছে যে, গত কয়েক দশক ধরে উচ্চশিক্ষায় একাধিপত্য বিস্তার করা আমেরিকার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে। একদিকে যখন চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উল্কার গতিতে তালিকার ওপরের দিকে উঠে আসছে, অন্যদিকে আমেরিকার অনেক নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের অবস্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
চীনের অভাবনীয় উত্থান
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে চীন তাদের উচ্চশিক্ষা খাতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে, তার ফল এখন দৃশ্যমান। চীনের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন সিংহুয়া এবং পিকিং ইউনিভার্সিটি এখন বিশ্বের সেরা ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকার নিয়মিত সদস্য। এক সময় যে র্যাঙ্কিংয়ে কেবল হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড বা এমআইটির মতো আমেরিকান প্রতিষ্ঠানের জয়গান শোনা যেত, সেখানে এখন চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে, বলছে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন।
গবেষণার গুণমান, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সাইটেশনের ক্ষেত্রে চীন অসামান্য উন্নতি করেছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত (STEM) বিষয়ে চীন এখন বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার পথে। চীনা সরকার তাদের 'ডাবল ফার্স্ট ক্লাস ইউনিভার্সিটি প্ল্যান'-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের করার যে লক্ষ্য নিয়েছিল, তা সফল হচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আমেরিকার অবনমনের কারণ
অন্যদিকে, আমেরিকার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে এর পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে:
১. অর্থায়নের সংকট: আমেরিকার অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি অনুদান কমেছে, যার ফলে গবেষণার মান ও সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। ২. গবেষণার প্রভাবে ভাটা: দীর্ঘকাল ধরে উদ্ভাবনী গবেষণায় নেতৃত্ব দিলেও বর্তমানে নতুন গবেষণার ক্ষেত্রে আমেরিকার হার কিছুটা মন্থর হয়েছে। ৩. রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা: ক্যাম্পাসগুলোতে ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতি কঠোর ভিসা নীতি আমেরিকার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্বমঞ্চে এর প্রভাব
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই র্যাঙ্কিং কেবল একটি তালিকা নয়, এটি একটি দেশের মেধা এবং অর্থনৈতিক শক্তির প্রতীক। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং গবেষকরা সাধারণত র্যাঙ্কিং দেখেই তাদের গন্তব্য নির্ধারণ করেন। চীন যদি এই ধারা বজায় রাখে, তবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রধান গন্তব্য হিসেবে আমেরিকার জায়গা দখল করে নিতে পারে বেইজিং।
প্যানেলিস্ট এবং শিক্ষাবিদদের মতে, এই পরিবর্তন আমেরিকার জন্য একটি সতর্ক সংকেত। যদি উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবন না বাড়ানো হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে বৈশ্বিক জ্ঞান-ভিত্তিক অর্থনীতিতে আমেরিকার আধিপত্য আরও কমে আসবে। অন্যদিকে, চীনের এই জয়যাত্রা বিশ্বকে এটিই জানান দিচ্ছে যে, উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু ধীরে ধীরে পশ্চিম থেকে পূর্বের দিকে সরে আসছে।