ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

বলছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়

এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

বাসস

প্রকাশ: ২১:২৬, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২১:২৭, ৪ জানুয়ারি ২০২৬

এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।


জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “খুচরা পর্যায়ে এলপিজির বাজার স্বাভাবিকের তুলনায় ঊর্ধ্বমুখী। বিষয়টি লক্ষ্য করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন।”

বৈঠকে পরিস্থিতি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। এলপিজির বাজার স্বাভাবিক করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আজ বিকাল ৩টায় মন্ত্রণালয়ে এলপিজি অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে জ্বালানি বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চলমান সংকট বিষয়ে আলোচনা করে নিম্নরূপ পর্যবেক্ষণ উঠে আসে- দেশে এলপিজি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে, বিশ্ববাজারে মূল্য বৃদ্ধি, জাহাজ সংকট এবং কিছু কার্গোর ওপর অবরোধ আরোপের কারণে আমদানির ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ এর নভেম্বর মাসে এলপিজি আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন। অথচ ২০২৫ এর ডিসেম্বর মাসে আমদানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি বৃদ্ধি সত্ত্বেও বাজারে এলপিজি সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ মাসে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি করতে পারে জেনে খুচরা বিক্রেতারা সংকট তৈরি করেছে বলে এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ ও আমদানিকারকরা জানিয়েছেন। আজ সন্ধ্যায় বিইআরসি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১,২৫৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৩০৬ টাকা করেছে।

ইতোমধ্যে গ্রিন ফুয়েল বিবেচনায় অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত কিছু দাবি- যেমন এলসি সহজীকরণ, আরোপিত ভ্যাট হ্রাস ইত্যাদি- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আজ বাজারে সৃষ্ট কৃত্রিম সংকট বিষয়ে বিবৃতি প্রদান করবে।

তাছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য কেবিনেট ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এসব পদক্ষেপের ফলে এলপিজির দাম দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন