শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০:৫৭, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
ছবি: সংগৃহীত।
নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় নাইজার রাজ্যের একটি ক্যাথলিক বোর্ডিং স্কুল থেকে অপহৃত বাকি ১৩০ জন শিক্ষার্থীকে তারা মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। দেশের অন্যতম ভয়াবহ এই গণ-অপহরণের পর সর্বশেষ এই মুক্তিকে নাইজেরিয়ার ফেডারেল সরকার "বিজয় এবং স্বস্তির মুহূর্ত" হিসেবে বর্ণনা করেছে।
গত ২১ নভেম্বর পাপিরি এলাকার 'সেন্ট মেরি ক্যাথলিক স্কুল' থেকে ২৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ও স্টাফকে অপহরণ করা হয়েছিল। এই মাসের শুরুর দিকে অপহৃতদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন শিশুকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, খবর বিবিসি’র।
কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "বাকি ১৩০ জন শিশু ও কর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখন আর একজন শিক্ষার্থীও অপহরণকারীদের কব্জায় নেই।"
মুক্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা: প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বায়ো ওনানুগা রোববার জানিয়েছেন যে, এ পর্যন্ত মোট ২৩০ জন শিক্ষার্থী মুক্তি পেয়েছে।
অস্পষ্টতা: অপহরণের শুরু থেকেই ঠিক কতজনকে তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং কতজন বন্দি ছিল, তা নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা ছিল। নভেম্বরের এই অপহরণের ঘটনাটি ছিল উত্তর ও মধ্য নাইজেরিয়ার স্কুল এবং উপাসনালয়গুলোকে লক্ষ্য করে চালানো ক্রমবর্ধমান হামলার ধারাবাহিকতার সর্বশেষ উদাহরণ। সেন্ট মেরিজ স্কুলে হামলার মাত্র কয়েকদিন আগেই আরও কিছু গণ-অপহরণের ঘটনা ঘটেছিল।
১৮ নভেম্বর: কোয়ারা (Kwara) রাজ্যের 'ক্রাইস্ট অ্যাপোস্টোলিক চার্চ'-এ এক হামলায় ২ জন নিহত এবং ৩৮ জনকে অপহরণ করা হয়।
১৭ নভেম্বর: কেবি (Kebbi) রাজ্যের 'গভর্নমেন্ট গার্লস সেকেন্ডারি স্কুল' থেকে ২৫ জন মুসলিম ছাত্রীকে অপহরণ করা হয় এবং সেখানেও ২ জন নিহত হন।
পরবর্তীতে কোয়ারা এবং কেবি রাজ্যের এই হামলায় অপহৃত সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এই অপহরণগুলোর পেছনে ঠিক কারা রয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করেন যে, মুক্তিপণের জন্য সক্রিয় বিভিন্ন অপরাধী চক্র বা গ্যাং এই কাজগুলো করে থাকে।
গত ৯ ডিসেম্বর নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবু বলেন, তার সরকার নাইজার এবং অন্যান্য রাজ্যগুলোর সাথে কাজ করা অব্যাহত রাখবে যাতে "আমাদের স্কুলগুলোকে সুরক্ষিত করা যায় এবং আমাদের ছোটদের জন্য শিক্ষার পরিবেশকে আরও নিরাপদ ও অনুকূল করে তোলা যায়।"