শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ১০:০২, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত।
ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধবিরতির ‘দ্বিতীয় পর্যায়ে’ খুব দ্রুত পৌঁছানোর আশা ব্যক্ত করেছেন। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, হামাস যদি দ্রুত নিরস্ত্রীকরণ না করে, তবে তাদের ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে।
গত সোমবার ফ্লোরিডায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনায় হামাসকে নিরস্ত্র হওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে, রিপোরট বিবিসি’র।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন যে, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলেও ইসরায়েল এই পরিকল্পনা ‘শতভাগ (১০০%) মেনে চলেছে’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন যে, ইরান যদি পুনরায় তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল বা পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে পুনরায় বড় ধরনের হামলার সমর্থন দিতে পারে।
হামাস ও ইসরায়েলের কত দ্রুত শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ে যাওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "যত দ্রুত সম্ভব। তবে অবশ্যই নিরস্ত্রীকরণ হতে হবে।"
হামাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "তারা যদি চুক্তি অনুযায়ী নিরস্ত্র না হয়, তবে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। তাদের খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।"
ট্রাম্প আরও জানান যে, গাজায় পুনর্গঠন কাজ "খুব শীঘ্রই শুরু হতে পারে"।
উল্লেখ্য, গাজা শান্তি পরিকল্পনা গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে। এই পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ে বিধ্বস্ত গাজায় একটি টেকনোক্র্যাট (প্রযুক্তিবিদ বা বিশেষজ্ঞনির্ভর) সরকার গঠন করা হবে, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হবে এবং ইসরায়েলি সেনারা সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হবে। এরপরই গাজার পূর্ণাঙ্গ পুনর্গঠন কাজ শুরু হবে।
তবে সমালোচকরা ধারণা করছেন যে, নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে পারেন এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আগেই হামাসকে নিরস্ত্র করার জন্য চাপ দিতে পারেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী নন।
অন্যদিকে, হামাস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অগ্রগতির পাশাপাশি পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া উচিত।
ইসরায়েল এই পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না—এমন উদ্বেগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল "পরিকল্পনা অনুযায়ীই কাজ করছে"। তিনি আরও যোগ করেন, "ইসরায়েল কী করছে তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই; বরং অন্য পক্ষগুলো কী করছে বা করছে না, তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।"
গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় গাজায় কমপক্ষে ৪১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
গাজার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, তারা কেবল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবেই গুলি চালিয়েছে। একই সময়ে তিনজন ইসরায়েলি সেনা নিহতের জন্য তারা হামাসকে দায়ী করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ইরানকেও সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান যদি ভিন্ন কোনো স্থানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে আবারও হামলা চালাবে। উল্লেখ্য যে, গত জুনে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো "বিদ্ধস্ত" হয়ে গেছে। তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।
ট্রাম্প বলেন, "আমি আশা করি তারা (ইরান) আবারও সবকিছু গড়ে তোলার চেষ্টা করছে না; কারণ যদি তারা তা করে, তবে আমাদের কাছে সেই প্রচেষ্টাকে নির্মূল করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।"
গ্রীষ্মকালে যেসব জায়গায় হামলা চালানো হয়েছিল, ইরান এখন তার বদলে "সম্ভবত ভিন্ন কোনো স্থান" ব্যবহার করছে—এমন খবর তিনি "পড়ছেন" বলেও উল্লেখ করেন।
গত জুনে ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া ইরান সোমবার এই রিপোর্টগুলোকে তেহরানের বিরুদ্ধে একটি "মনস্তাত্ত্বিক অভিযান" হিসেবে অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছে। ইরান বলেছে যে, তারা নিজেদের রক্ষায় পুরোপুরি প্রস্তুত এবং সতর্ক করে দিয়েছে যে, নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে ইসরায়েলকে "আরও কঠোর পরিণতির" মুখোমুখি হতে হবে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর আলোচনায় সিরিয়া এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহসহ আঞ্চলিক উত্তেজনার অন্যান্য বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়।
নেতানিয়াহু সোমবার জানান যে, ইসরায়েল সিরিয়া সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে আগ্রহী। অন্যদিকে, ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন যে ইসরায়েল সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’র সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে। উল্লেখ্য যে, গত বছর দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আহমেদ আল-শারা ক্ষমতায় বসেন।
ইসরায়েল এই নতুন নেতার ব্যাপারে সন্দিহান, কারণ তিনি একসময় আল-কায়দার সদস্য ছিলেন। গত জুলাইয়ে ইসরায়েল দামেস্কে সরকারি ভবনগুলোতে বোমা হামলাও চালিয়েছিল।
ট্রাম্প বলেন, "আমি আশা করি সে (নেতানিয়াহু) সিরিয়ার সাথে সুসম্পর্ক রাখবে, কারণ সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট ভালো কাজ করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন।"
তিনি আরও যোগ করেন, "তিনি আসলেই চেষ্টা করছেন। আমি জানি তিনি একজন কঠিন মানুষ (Tough cookie)। আর আপনারা জানেন তো, সিরিয়াকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আপনি কোনো শান্তশিষ্ট বা নিরীহ মানুষ (Choir boy) পাবেন না।"
উল্লেখ্য যে, গত জুনে ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন।