শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯:৪৫, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
ইরান সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণবিক্ষোভের সমর্থনে জার্মানির বার্লিনে বিক্ষোভকারীরা একটি বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করছে, শনিবার, ১০ জানুয়ারী। ছবি: ইউরো নিউজ
ইরানের শোচনীয় অর্থনৈতিক অবস্থা এবং ভয়াবহ খাদ্য সংকটের প্রতিবাদে দেশটিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গত শনিবার ইউরোপের প্রধান শহরগুলোতে বিক্ষোভকারীরা সমবেত হন। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরের বিখ্যাত 'মালিভেল্ড' নামক বিশাল ঘাস চত্বরে শত শত মানুষ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ধর্মতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
ডিসেম্বরের শেষের দিকে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েকদিন পরেই নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়, খবর ইউরো নিউজের।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও উদ্বেগ ইরানে বর্তমানে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় প্রবাসীরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তারা দেশে থাকা পরিবার ও বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক নারী বলেন:
"আমি এখানে এসেছি সেই সব ইরানিদের জন্য যারা এখন ইরানের রাস্তায় নেমেছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে অবদান রাখতে চাই, যাতে তারা দেখতে পায় যে আমরাও এখানে প্রতিবাদ করছি। আমরা হয়তো অনেক দূরে আছি, কিন্তু আমাদের হৃদয় ইরানের সাথেই আছে।"
প্রবাসীদের দায়িত্ব ও আতঙ্ক সমাবেশে উপস্থিত অধিকাংশ মানুষই প্রবাসী ইরানি বা ইরানি বংশোদ্ভূত। তারা মনে করেন, দেশে থাকা সব বয়সী ও শ্রেণি-পেশার মানুষ যখন নিজেদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছেন, তখন বিদেশ থেকে তাদের সমর্থন জানানো প্রবাসীদের কর্তব্য।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অন্য একজন তার আতঙ্কের কথা জানিয়ে বলেন: "আমার পরিচিত প্রায় সবাই প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছে। এমনকি আমার ৬০ বছর বয়সী বাবাও রাস্তায় নেমেছেন। কিন্তু তাদের সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই, তাই আমি জানি না তারা আদৌ এখনো বেঁচে আছেন কি না।"
বার্লিনে সংহতি ও আন্তর্জাতিক সাহায্যের আবেদন
ইরানে চলমান আন্দোলনের সমর্থনে বার্লিনের রাজপথেও মানুষ নেমে আসেন। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে প্রবাসে থাকা আজাদেহ নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন:
"আমি এখানে দশ বছর ধরে আছি, কিন্তু দেখছি পরিস্থিতি দিন দিন কেবল খারাপই হচ্ছে। আমার মনে হয় এবার সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।"
তিনি আরও যোগ করেন:
"আমি প্রায়ই শুনছি যে এবারের পরিস্থিতি আগের মতো নয়, একদম আলাদা। মানুষ এখন অনেক বেশি ক্ষুব্ধ এবং তারা এখন গুলিবিদ্ধ হওয়ারও পরোয়া করছে না। তারা শুধু তাদের স্বাধীনতা, অধিকার এবং নিজেদের দেশ ফেরত চায়।"
ইউরোপ ও আমেরিকার প্রতি আহ্বান বার্লিনের বিক্ষোভকারীরা আশা করছেন যে, তাদের এই সক্রিয়তা দেখে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জনগণকে বর্তমান শাসনব্যবস্থা পতনের লড়াইয়ে সহায়তা করবে। ফারশাদ দৌস্তিপুর নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন:
"গত কয়েকদিন ধরে ইরান সরকার যে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তার প্রতিবাদে এবং ইরানি জনগণের সাথে একাত্মতা জানাতে আমরা আজ এখানে এসেছি। আমি আশা করি ইউরোপীয় ও আমেরিকানরা বুঝতে পারবে যে, এই সরকারকে জনগণই ধ্বংস করবে। তবে সেই লক্ষ্যে আমাদের ইউরোপ এবং আমেরিকার সাহায্য প্রয়োজন।"
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
বিশ্বনেতাদের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্যতম প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এই বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি ইরান সরকারকে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা বন্ধ করার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দেন এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।
শনিবার ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল' (Truth Social)-এ আন্দোলনের অগ্রগতি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন এবং সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি লেখেন:
"ইরান সম্ভবত আগের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় 'স্বাধীনতা'র দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত!!! — প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।"