শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮:৩৭, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
দেশব্যাপী প্রাণঘাতী বিক্ষোভের মুখে ইরানের পার্লামেন্ট গত রবিবার এক জরুরি অধিবেশনে মিলিত হয়। রাষ্ট্রীয় টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত এই অধিবেশনে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কোনো হামলা চালায়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং ইসরায়েল হবে তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’।
বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান: স্পিকার গালিবাফ পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডের (বিশেষ করে স্বেচ্ছাসেবী 'বাসিজ' বাহিনী) প্রশংসা করে বলেন, তারা বিক্ষোভের মুখে "দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে," রিপোর্ট করেছে ফ্রান্স টোয়েন্টি ফোর ডট কম।
আটককৃতদের শাস্তি: তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "ইরানের জনগণের জানা উচিত যে আমরা বিক্ষোভকারীদের সাথে অত্যন্ত কঠোর আচরণ করব এবং যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের কঠোর শাস্তি দেব।"
পূর্ব সতর্কতামূলক হামলার হুমকি: গালিবাফ কেবল পাল্টা আক্রমণের কথা বলেননি, বরং প্রি-এম্পটিভ বা আগাম হামলার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, "আমরা শুধু হামলার পর প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব না; হুমকির যেকোনো বস্তুনিষ্ঠ লক্ষণ দেখলেই আমরা ব্যবস্থা নেব।"
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও উত্তেজনা:
পার্লামেন্ট চলাকালীন সংসদ সদস্যদের "আমেরিকা নিপাত যাক" স্লোগান দিতে দেখা যায়। এই উত্তেজনা এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে যখন মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস' জানিয়েছে যে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত রবিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে ফোন কলে গাজা, সিরিয়া এবং ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি:
বিক্ষোভে প্রাণহানি: ইরানি মানবাধিকার সংস্থা HRANA-এর তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: নেটব্লকস (Netblocks) জানিয়েছে, ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা ৬০ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে। সংস্থাটি একে ইরানি জনগণের নিরাপত্তার জন্য একটি "সরাসরি হুমকি" হিসেবে বর্ণনা করেছে।
হুমকি ও দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে ইরানে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আপনার প্রদানকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদের পরবর্তী অংশের বাংলা অনুবাদ নিচে দেওয়া হলো:
হুমকি সত্ত্বেও নতুন করে বিক্ষোভের আগুন
ইরান থেকে পাঠানো বিভিন্ন অনলাইন ভিডিওতে দেখা গেছে—যা সম্ভবত স্টারলিংক (Starlink) স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে—বিক্ষোভকারীরা উত্তর তেহরানের পুনাক (Punak) এলাকায় জড়ো হয়েছেন। সেখানে কর্তৃপক্ষ রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিলেও বিক্ষোভকারীদের তাদের মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। অনেককে ধাতব বস্তুতে আঘাত করে শব্দ করতে এবং আতশবাজি পোড়াতেও দেখা গেছে।
অন্যান্য ফুটেজে বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণ মিছিল এবং সংহতি জানিয়ে গাড়ির হর্ন বাজাতে দেখা গেছে।
বিক্ষোভের ধরণ ও কৌশল:
মানবাধিকার সংস্থা HRANA-এর মতে:
ছিন্নভিন্ন ও ক্ষণস্থায়ী জমায়েত: নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ও চাপের কারণে রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভকারীরা এখন বড় সমাবেশের বদলে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে দ্রুত জমায়েত হওয়ার কৌশল নিয়েছে।
ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি: বিক্ষোভ চলাকালীন মাথার ওপর নজরদারি ড্রোন উড়তে দেখা গেছে এবং বিক্ষোভস্থলের আশেপাশে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
অন্যান্য শহরের পরিস্থিতি:
মাশহাদ (Mashhad): তেহরান থেকে ৭২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরে বিক্ষোভকারীদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। রাস্তায় আবর্জনার বাক্সে আগুন ধরিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। উল্লেখ্য যে, শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান ইমাম রেজা মাজার এই শহরে অবস্থিত হওয়ায় এখানে বিক্ষোভের বিশেষ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।
কেরমান (Kerman): তেহরান থেকে ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কেরমান শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।