শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ১৯:০০, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৯:০১, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সোমবার মতিঝিলের পীরজঙ্গি মাজার রোডে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তারেক রহমান।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো কম্প্রোমাইজ করবে না বিএনপি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠন করতে পারলে আমাদের সর্বপ্রথম কাজ হবে আইনশৃঙ্খলা কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করা। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই— যেখানে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন। মানুষ নিরাপত্তার সঙ্গে চাকরি ও ব্যবসা করবে এবং রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে।’
আজ সোমবার রাজধানীর মতিঝিলের পীরজঙ্গি মাজার রোডে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০০১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে দুর্নীতি থেকে দেশকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন, ভবিষ্যতেও সেভাবেই দুর্নীতি দমনে কাজ করবে বিএনপি। এই ব্যাপারে আইন নিজের গতিতে চলবে, কারো সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।’
একটি দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, দেশ পরিচালনা করতে হলে দেশের মানুষের জন্য তাদের পরিকল্পনা নেই, কিন্তু বড় বড় কথা আছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘মঞ্চে দাঁড়িয়ে অনেকেই বড় বড় কথা বলতে পারেন, হাততালি পাওয়ার জন্য অনেকেই সুন্দর কথা বলেন। কিন্তু দেশ চালানো এত সহজ কোনো কাজ নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশ চালাতে হলে দেশের মানুষের জন্য পরিকল্পনা দরকার, কোথায় তাদের পরিকল্পনা? শুধু বড় বড় কথা আছে। দেশ চালানোর জন্য দরকার কর্মসূচি, কোথায় তাদের কর্মসূচি? দেশ চালানোর জন্য অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। তাদেরই বন্ধু-বান্ধব গত এক দেড় বছর যাবৎ দেখেছি সরকারের অংশ ছিল, তাহলে আজকে এই দুর্গতি কেন?’
তারেক রহমান বলেন, ‘এটি আজ প্রমাণিত— যদি বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের কেউ পরিবর্তন করতে পারে, দেশে যদি দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হয়, তাহলে কে পারবে? পারবে ধানের শীষ।’
দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘নারীদের উন্নয়নযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কারণে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের খেটে খাওয়া পরিবারের গৃহিণীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে এবং এর মাধ্যমে সরকার প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে, যাতে পরিবারগুলো ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।’
কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। অতীতে বিএনপি সরকারের সময় কৃষকদের জন্য সুদ মওকুফ ও কৃষি জমির খাজনা মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।’
দেশের তরুণ যুবক সমাজের সদস্য যারা— ছেলে হোক মেয়ে হোক, কীভাবে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব, আইসিটিসহ ভোকেশনাল বিভিন্ন টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশন গঠনের মাধ্যমে করব। দল-মত নির্বিশেষে, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে, সেই পরিকল্পনা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি।
তারেক রহমান বলেন, উন্নয়নের নামে যে লুটপাট হয়েছে, তা দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। জনগণের করের টাকা ব্যবহার করে বড় বড় প্রকল্প করা হলেও সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক চাহিদা উপেক্ষিত থেকেছে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের নামে লুটপাট নয়, জনগণের বাস্তব প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে।
ঢাকা-৮ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আপনাদের সঠিক মানুষ বেছে নিতে হবে। যে মানুষটি এই এলাকার, তাকেই বাছাই করতে হবে। কারণ, এলাকার সমস্যা সমাধানে বাইরের কেউ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। মনে রাখবেন, বাইরের মানুষ কখনো ঘরের মানুষকে চিনতে পারে না।’
জনসভায় ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘যে মানুষটির বেড়ে ওঠা এই এলাকায়, তিনি হচ্ছেন মির্জা আব্বাস। আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা তাকে দেখে রাখুন। তার পাশে থাকুন। এরপর থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মির্জা আব্বাস বিপদে আপদে আপনাদের পাশে থাকবে।’
বক্তব্যের শেষে উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, আমি আমার পরিকল্পনার কথা আপনাদের বললাম, এবার আপনারা বলুন— ১২ তারিখে আপনাদের পরিকল্পনা কী? উত্তরে উপস্থিত জনতা একসঙ্গে উচ্চস্বরে বলে ওঠেন— ১২ তারিখ সারাদিন, ধানের শীষ ভোট দিন; ১২ তারিখ সারাদিন, ভোটকেন্দ্র পাহারা দিন।