শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ২৩:৩২, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি’ উপদেষ্টা পরিষদের সোমবার প্রথম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শারমীন এস মুরশিদ। বাসস
সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, প্রতিবছর নারী ও শিশু সংক্রান্ত মামলার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরিকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ল্যাবে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি।
এছাড়াও দেশের সকল বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবকে দ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণ ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবে উন্নীত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সভাকক্ষে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি’ উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সভায় আজ প্রধান অতিথির বক্তব্যে শারমীন এস মুরশিদ এসব কথা বলেন।
সভার সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ। এছাড়াও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক, সিআইডি প্রতিনিধি এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শারমীন এস মুরশিদ বলেন, মন্ত্রণালয়ের ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ১৫ বছরের বেশি পুরনো হওয়ায় এর কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। নমুনা বিশ্লেষণের গুণমান, বিশুদ্ধতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মেশিন ভ্যালিডেশন, ল্যাব কার্যক্রমের অডিট এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়ন অত্যাবশ্যক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতি বছর ইন্টারনাল অডিট এবং দুই বছর অন্তর এক্সটার্নাল অডিটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ অডিট ম্যানুয়াল প্রণয়ন করা জরুরি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের সকল ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় একটি সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে মামলার তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং বিচারিক প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়।
তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ও সেবা কার্যক্রম জোরদার করতে ২০০৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে এ সেবা দেশব্যাপী বিস্তৃত করার জন্য চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহসহ মোট আটটি মেডিকেল কলেজে ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি জানান, ২০০৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাব মোট ১১ হাজার ৫০১টি মামলার ৩৭ হাজার ৫৯২টি ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণ করেছে এবং ৬ হাজার ৩৩৩টি মামলার রিপোর্ট প্রদান করেছে, যা ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনার একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শবনম মোস্তারী বলেন, সিআইডি হেডকোয়ার্টারের ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি প্রায়ই অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাব থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিজস্ব ল্যাবে রিপোর্ট তৈরি করে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট তথ্য ডিএনএ অধিদপ্তর বা ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবকে প্রদান করে না। এ কারণে একটি সমন্বিত ডাটাবেজে সকল নমুনার তথ্য সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।