শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১:০১, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে: আজ আমরা 'কগনিটিভ রিজার্ভ' বা মানসিক সঞ্চয় নামক একটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে মজার একটি কাজ করব।
কয়েক দশকের গবেষণা বলছে যে, যাদের শিক্ষার পেছনে বেশি সময় কেটেছে, যারা বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ বেশি করেন বা যাদের শখগুলো মানসিকভাবে উদ্দীপনামূলক, বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের মানসিক ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক কম থাকে, ফিচার নিউ ইয়র্ক টাইমসের।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এর আংশিক কারণ হলো কগনিটিভ রিজার্ভ। সহজভাবে বললে, বছরের পর বছর ধরে আপনি আপনার মস্তিষ্কের যত বেশি শক্তি সঞ্চয় করবেন, বার্ধক্যে মানসিক কোনো সমস্যা দেখা দেওয়ার আগে আপনার মস্তিষ্ক তত বেশি ক্ষয় সহ্য করার ক্ষমতা রাখবে। গবেষকরা এখনও এটি পরিমাপের সঠিক উপায় নিয়ে একমত হতে পারেননি, তবে একটি তত্ত্ব হলো—মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ যত ভালো হবে, কগনিটিভ রিজার্ভ তত বাড়বে।
এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথ-এর নিউরোলজিস্ট ডক্টর জোয়েল স্যালিনাস বলেন, এই সংযোগগুলো তৈরি করতে আপনার মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করা প্রয়োজন। এর জন্য এমন কোনো কাজ বেছে নিন যা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং এবং যা করতে কিছুটা প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়, কিন্তু আবার এতটাই কঠিন নয় যে আপনি হাল ছেড়ে দেবেন।
দ্বিতীয় কোনো ভাষায় কথা বলা মস্তিষ্কের জন্য ভালো বলে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া বাদ্যযন্ত্র বাজানো, জাদুঘর পরিদর্শনে যাওয়া এবং হাতের কাজ যেমন সেলাই বা কুশিকাটা করাও উপকারী। বই পড়াকে একটি মানসিকভাবে উদ্দীপনামূলক শখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আপনি যদি কোনো বুক ক্লাবে যোগ দেন তবে এর সামাজিক দিকটির কারণে আরও বেশি উপকার পাবেন। সিডারস-সিনাইয়ের মেমরি অ্যান্ড হেলদি এজিং প্রোগ্রামের পরিচালক ডক্টর জাল্ডি টান বলেন, নতুন কিছু শিখতে পডকাস্ট শুনুন অথবা স্থানীয় কোনো কলেজ বা কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে সরাসরি লেকচার শুনুন। এতে সামাজিক যোগাযোগের পাশাপাশি নতুন জায়গায় যাওয়ার বাড়তি একটি চ্যালেঞ্জও যুক্ত হয়।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে দাবার মতো বোর্ড গেম খেলা মস্তিষ্কের জন্য ভালো হতে পারে; ক্রসওয়ার্ড পাজল বা শব্দজট সমাধানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এছাড়া ব্রেইন টিজার বই বা নিউ ইয়র্ক টাইমস গেমসের মতো বিভিন্ন ধাঁধা সমাধান করাও মানসিক উপকার দিতে পারে।
তবে এখানে একটি বিশেষ দিক রয়েছে: মস্তিষ্কের সেরা ব্যায়াম পেতে হলে কাজটি কেবল চ্যালেঞ্জিং হলেই হবে না, সেটি নতুনও হতে হবে। মিশিগান ইউনিভার্সিটি মেডিকেল স্কুলের নিউরোলজির ক্লিনিক্যাল প্রফেসর ডক্টর লিন্ডা সেলওয়া বলেন, আপনি যদি প্রতিদিন কেবল একটি নির্দিষ্ট গেম যেমন 'ওয়ার্ডল' (Wordle) খেলেন, তবে আপনি কেবল ওই গেমেই দক্ষ হয়ে উঠবেন। আপনার মস্তিষ্কের ওই নির্দিষ্ট অংশটি চমৎকারভাবে কাজ করবে, কিন্তু মনের বাকি অংশের উন্নতির জন্য আরও কাজের প্রয়োজন হতে পারে।
তাই ডক্টর সেলওয়া এমন কোনো গেম খেলার পরামর্শ দিয়েছেন যা আপনি সচরাচর খেলেন না। তিনি মনে করেন, নতুনত্বই মস্তিষ্কের পুনর্গঠন এবং বিকাশে প্রধান ভূমিকা রাখে।
আজ আমরা চাই আপনি আপনার পরিচিত গণ্ডির বাইরে গিয়ে নিজেকে মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জ করুন। অনলাইনে কোনো লেকচার দেখুন অথবা আপনার চ্যালেঞ্জ সঙ্গীর সাথে জাদুঘর ঘুরে আসুন। অথবা নিচে দেওয়া সম্পূর্ণ নতুন কোনো গেম খেলার চেষ্টা করুন। আজ আপনি নতুন কী করলেন তা কমেন্টে আমাদের জানান। চ্যালেঞ্জের পঞ্চম দিনে আগামীকাল আবার দেখা হবে।