শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০:১২, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২০:১৭, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৯৫ বছর বয়সে দ্য গডফাদার খ্যাত অস্কারজয়ী কিংবদন্তি অভিনেতা রবার্ট ডুভাল পরলোক গমন করেছেন। ছবি: সংগৃহীত।
দ্য গডফাদার’ খ্যাত অস্কারজয়ী কিংবদন্তি অভিনেতা রবার্ট ডুভালের প্রয়াণে চলচ্চিত্র জগতে একটি যুগের অবসান হলো। ৯৫ বছর বয়সে গত রবিবার (স্থানীয় সময়) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সোমবার তাঁর স্ত্রী লুসিয়ানা পেদ্রাজা ডুভাল এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
বিদায় নিলেন এক কিংবদন্তি
রবার্ট ডুভালের স্ত্রী এক আবেগঘন বার্তায় জানান, "গতকাল (স্থানীয় সময় রবিবার) সময় আমি আমার প্রিয় স্বামী এবং আমাদের সময়ের অন্যতম সেরা অভিনেতাকে বিদায় জানিয়েছি। বব বাড়িতেই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। বিশ্বের কাছে তিনি একজন অস্কারজয়ী অভিনেতা ও পরিচালক হতে পারেন, কিন্তু আমার কাছে তিনি ছিলেন আমার সবকিছু," খবর ফ্রান্স টোয়েন্টি ফোর এর।
ডুভারের স্মরণীয় কিছু কাজ
ছয় দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ডুভাল অনেক কালজয়ী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ হলো:
দ্য গডফাদার (The Godfather): মাফিয়া পরিবারের অনুগত আইনজীবী এবং পরামর্শদাতা 'টম হেগেন' চরিত্রে তাঁর অভিনয় এখনো দর্শকদের মনে গেঁথে আছে।
অ্যাপোক্যালিপস নাউ (Apocalypse Now): ভিয়েতনাম যুদ্ধের ওপর নির্মিত এই সিনেমায় পাগলপ্রায় লেফটেনেন্ট কর্নেল উইলিয়াম কিলগোর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি অস্কার মনোনয়ন পান। এই ছবির বিখ্যাত সংলাপ— "I love the smell of napalm in the morning" (সকালে নাপাম বোমার গন্ধ আমার খুব প্রিয়)—সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় উক্তি।
টেন্ডার মার্সিস (Tender Mercies): ১৯৮৩ সালে এই সিনেমায় একজন ব্যর্থ কান্ট্রি সিঙ্গারের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা অভিনেতার অস্কার জয় করেন।
সহশিল্পীদের শ্রদ্ধা
ডুভালের দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং 'দ্য গডফাদার' সিনেমার সহ-অভিনেতা আল পাচিনো এক বিবৃতিতে বলেন, "রবার্ট ডুভালের সাথে কাজ করা আমার জন্য সম্মানের ছিল। তিনি ছিলেন জন্মগত অভিনেতা। তাঁর অভিনয় দক্ষতা এবং মেধা সবসময় স্মরণে থাকবে। আমি তাঁকে খুব মিস করব।"
রবার্ট ডুভালের অভিনয়ের প্রতি নিষ্ঠা এবং তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বৈচিত্র্য সত্যিই বিস্ময়কর। আপনার দেওয়া তথ্যগুলোর ওপর ভিত্তি করে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের বাকি অংশটুকু নিচে বাংলায় তুলে ধরা হলো:
চরিত্রের গভীরে ডুভাল: গবেষণালব্ধ অভিনয়

রবার্ট ডুভাল তাঁর প্রতিটি চরিত্রের পেছনে প্রচুর সময় ব্যয় করতেন। 'অ্যাপোক্যালিপস নাউ' সিনেমার কর্নেল কিলগোর চরিত্রটি প্রথমে আরও বেশি উগ্র বা 'ওভার দ্য টপ' হওয়ার কথা ছিল (এমনকি চরিত্রটির নাম প্রথমে ছিল 'কর্নেল কার্নেজ')। কিন্তু ডুভাল নিজের গবেষণার মাধ্যমে চরিত্রটিকে আরও মার্জিত ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলেন। ২০১৫ সালে ল্যারি কিং-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, "আমি আমার হোমওয়ার্ক এবং রিসার্চ ঠিকমতো করেছিলাম।"
বিখ্যাত পরিচালক ফ্রান্সিস ফোর্ড কোপলা ডুভালের মৃত্যুকে একটি বিশাল "ধাক্কা" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ডুভাল ছিলেন তাঁর প্রোডাকশন হাউস 'আমেরিকান জোয়েট্রোপ'-এর এক অপরিহার্য অংশ।
একটি দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় ক্যারিয়ার
ডুভাল হলিউডে কিছুটা দেরিতে জনপ্রিয়তা পেলেও তাঁর প্রতিটি কাজ ছিল অসাধারণ। তাঁর ক্যারিয়ারের কিছু মাইলফলক নিচে দেওয়া হলো:
বুক রাডলি (To Kill a Mockingbird, ১৯৬২): ৩১ বছর বয়সে হার্পার লি-র উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই সিনেমায় তিনি এক রহস্যময় নিভৃতচারী চরিত্রে অভিনয় করেন। আলেক বল্ডউইনের মতে, কোনো সংলাপ ছাড়াই ডুভাল এই চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন।
নেটওয়ার্ক (Network, ১৯৭৬): একজন দাপুটে কর্পোরেট এক্সিকিউটিভ হিসেবে তাঁর উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া।
দ্য গ্রেট সান্তিনি (The Great Santini, ১৯৭৯): একজন মেরিন অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি নিজের পরিবারকে সৈনিকদের মতো শাসন করতেন।
লোনসাম ডাভ (Lonesome Dove, ১৯৮৯): ডুভালের নিজের মতে এটিই ছিল তাঁর প্রিয় কাজ। এখানে তিনি টেক্সাস রেঞ্জার থেকে কাউবয় হওয়া 'অগাস্টাস ম্যাকক্রি' চরিত্রে অভিনয় করেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও সহকর্মীদের স্মৃতি
ডুভাল শুধু পর্দায় নয়, পর্দার বাইরেও ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত। ব্রিটিশ অভিনেত্রী জেন সেমুর তাঁর সাথে কাটানো বারবিকিউ পার্টি এবং ট্যাঙ্গো নাচের স্মৃতিচারণ করেছেন। চলচ্চিত্র সমালোচক ইলেইন মানচিনি তাঁকে আমেরিকার পর্দার "সবচেয়ে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ এবং বহুমুখী অভিনেতা" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।