শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬:১১, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্যা ও ঝড়ে অন্তত ৩ জন মারা গেছেন। ছবি: সংগৃহীত।
বড়দিনে শক্তিশালী ঝড়, ভারী বৃষ্টিপাত ও প্রাণঘাতী কাদা ধসের আশঙ্কায় বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেস ও দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার অধিকাংশ এলাকায় হঠাৎ বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়।
‘দ্য পাইনঅ্যাপল এক্সপ্রেস’ নামে পরিচিত একটি বায়ুমণ্ডলীয় নদীর (অ্যাটমোস্ফেরিক রিভার) প্রভাবে সৃষ্ট এই ঝড় হাওয়াইয়ের উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল থেকে বিপুল আর্দ্রতা পশ্চিম উপকূলে নিয়ে আসে।
আগামী কয়েক দিনে এই ঝড়ের প্রভাবে কয়েক মাসের সমপরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ভিন্ন এক খবরে বিবিসি জানিয়েছে, সেখানে ঝড় ও বন্যায় অন্তত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম লস অ্যাঞ্জেলেসসহ কয়েকটি কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানায়, আজ ও আগামীকাল দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় ভারী তুষারপাত ও প্রবল বাতাস বইছে। এ সব স্থানের প্রাণ ও সম্পদ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাতে ওই অঞ্চলে শক্তিশালী ঝড় ও ভারী বৃষ্টি হয়। এতে লস অ্যাঞ্জেলেসে গাছ উপড়ে পড়ে, রাস্তায় কিছু ধ্বংসাবশেষ জমে যায় ও হালকা বন্যার সৃষ্টি হয়।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
বুধবার ভোরে বৃষ্টিপাত আরো তীব্র হয়। বড়দিনে ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়ায় দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
বুধবার গভীর রাতে প্রথম ঝড়টি লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকা ছেড়ে যায়।
আবহাওয়াবিদরা জানান, প্রথম ঝড়েই কিছু কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে ১০ ইঞ্চি (২৫ দশমিক ৪ সেন্টিমিটার) বৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট পাওয়ারআউটেজ ডট ইউএস জানিয়েছে, বড়দিনের আগের সন্ধ্যায় অঙ্গরাজ্যজুড়ে প্রায় ৮০ হাজার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
বিবিসি যোগ করেছে: বড়দিন অর্থাৎ স্থানীয় সময় বুধবার রাত পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার বিশাল এলাকা জুড়ে প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ের দাপটে বন্যা এবং ভূমিধস দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি শুক্রবার পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কিছু কিছু এলাকায় ১১ ইঞ্চি (২৭ সেমি) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার ফলে বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বন্যায় আটকে পড়া মানুষ এবং তলিয়ে যাওয়া যানবাহন থেকে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করেছেন জরুরি সেবা কর্মীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজওম বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেসসহ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যের প্রায় ১ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিলেন। মার্কিন আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র (US Weather Prediction Center) সতর্ক করে জানিয়েছে যে, "আরও অনেক জায়গায় আকস্মিক বন্যা হতে পারে।" তারা আরও জানায়, অনেক ছোট ছোট নদী প্লাবিত হয়ে বড় নদীগুলোতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার সকালে সান ডিয়েগোতে গাছ পড়ে ৬৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে রেডিং শহরের মেয়র জানান, গত সপ্তাহের শেষে গাড়িতে আটকে পড়া অবস্থায় এক ৭৪ বছর বয়সী ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে গেলে বন্যার তোড়ে ভেসে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।