শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:৪৮, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রতীকি ছবি (লস এঞ্জলস্): সংগৃহীত।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ বছরের চরম আবহাওয়া আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
নতুন এই গবেষণা অনুযায়ী, এ বছরের তাপপ্রবাহ, দাবানল এবং ঝড় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আরও তীব্র হয়েছে, যা লক্ষ লক্ষ মানুষকে টিকে থাকার সীমার শেষ প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (WWA) নামক গবেষণা নেটওয়ার্কের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, গত তিন বছরে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় প্রথমবারের মতো ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে।
২০২৫ সালে WWA ১৫৭টি চরম আবহাওয়া জনিত ঘটনা চিহ্নিত করেছে যা ব্যাপক মানবিক প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে বন্যা এবং তাপপ্রবাহ ছিল সবচেয়ে সাধারণ, যার পরেই ছিল ঝড় এবং দাবানল, খবর সুইডেন হেরাল্ডের।
সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে তাপপ্রবাহের কারণে। যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে শুধুমাত্র ইউরোপে গ্রীষ্মকালীন একটি তাপপ্রবাহে ২৪,০০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে।
গবেষকদের নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা ২২টি চরম আবহাওয়া জনিত ঘটনার মধ্যে ১৭টির পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। WWA-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দক্ষিণ সুদান, মেক্সিকো, সুইডেন এবং নরওয়ের মতো দেশগুলোতে তীব্র গরম বা তাপ সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রান্তিক এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া গ্লোবাল সাউথ বা দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলো থেকে তথ্যের অভাব থাকায় স্থানীয় দুর্যোগগুলো বিশ্লেষণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের জলবায়ু বিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং প্রতিবেদনের লেখক ফ্রিডরিখ অটো বলেন, "প্রতি বছর জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিগুলো কাল্পনিক পর্যায় থেকে সরে এসে এক নিষ্ঠুর বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নীতিনির্ধারকদের বুঝতে হবে কয়লা, তেল এবং গ্যাসের ওপর ক্রমাগত নির্ভরতা মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে এবং অপূরণীয় ধ্বংসযজ্ঞের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রতিবেদনের অন্যতম উপসংহার হলো—প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সত্ত্বেও, এ বছরের চরম আবহাওয়া কিছু সম্প্রদায়কে তাদের মানিয়ে নেওয়ার বা টিকে থাকার ক্ষমতার বাইরে ঠেলে দিচ্ছে।