শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯:৪৫, ২ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত।
আফগানিস্তানে মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিপাত ও তুষারপাতের ফলে দীর্ঘস্থায়ী খরা পরিস্থিতির অবসান ঘটলেও, এর ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হেরাত প্রদেশে প্রাণহানি: হেরাত প্রদেশের কাবকান জেলায় বৃহস্পতিবার একটি বাড়ির ছাদ ধসে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতের তালিকায় দুই শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছেন হেরাতের গভর্নরের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ সাঈদী,খবর পিবিএস (Public Broadcasting Service, USA)-এর।
সারাদেশে প্রভাব: জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ হাম্মাদ জানান, সোমবার থেকে শুরু হওয়া বন্যায় দেশের মধ্য, উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে।
অবকাঠামো ও গবাদিপশু: বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া প্রচুর গবাদিপশু মারা গেছে এবং প্রায় ১,৮০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে।
দশকব্যাপী যুদ্ধ, দুর্বল অবকাঠামো, বন উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আফগানিস্তান বর্তমানে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মাটির তৈরি ঘরবাড়িগুলো আকস্মিক বন্যা বা প্রবল বৃষ্টিপাত মোকাবিলা করতে সক্ষম নয়।
মানবিক সংকট ২০২৬: জাতিসংঘ ও অন্যান্য সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, ২০২৬ সালেও আফগানিস্তান বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকটের দেশ হিসেবে পরিচিত থাকবে। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ এবং এর সহযোগী সংস্থাগুলো দেশটির প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষের জরুরি সহায়তার জন্য ১.৭ বিলিয়ন ডলারের একটি আবেদন জানিয়েছে।