শিরোনাম
সুভাষ কুমার বর্মন
প্রকাশ: ১৫:৩২, ২৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৩৫, ২৫ মার্চ ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
মৌমাছির প্রধান প্রয়োজনীয়তাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
ফুল ও ফসলের পরাগায়ণে ,ফসল উৎপাদন: মৌমাছি হলো প্রকৃতির প্রধান পরাগায়ণকারী পতঙ্গ। ফুলের মধু সংগ্রহের সময়ে এরা এক ফুল থেকে অন্য ফুলে পরাগরেণু ছড়িয়ে দেয়, যা উদ্ভিদের বংশবিস্তারে সাহায্য করে। এর ফলে কৃষি ফসলের উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যায়। মৌমাছি না থাকলে অনেক ফল ও সবজির ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাবে।
সাম্প্রতিক কালে বিজ্ঞান গবেষণায় দেখা গেছে যে, মৌমাছির উপস্থিতি কমে যাওয়ায় কোন কোন ফসলী জমিতে উৎপাদন কমে গেছে। যেমন - পেঁয়াজ বীজের ক্ষেত এখন মানুষের হাত দিয়ে পরাগায়ন না করলে বীজ উৎপাদন হয় না। সরিষার ক্ষেতে মৌমাছি পালনকারী অনেকেই মৌমাছি বক্স স্থাপন করে সরিষার বাম্পার ফলন ফলাতে সফল হয়েছে। আবার মধুর উৎপাদন ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ছবি: সুভাষ কুমার বর্মন

খাদ্য নিরাপত্তা: মানুষের গ্রহণ করা প্রতি তিন লোকমা খাবারের এক লোকমা সরাসরি মৌমাছির পরাগায়নের ওপর নির্ভরশীল। বিজ্ঞানীদের মতে, মৌমাছি বিলুপ্ত হলে পৃথিবীতে খাদ্য সংকট দেখা দেবে এবং মানবজাতি বড় ধরনের হুমকিতে পড়বে।
মধু ও মোম উৎপাদন: মৌমাছি আমাদের অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার 'মধু' উপহার দেয়। এছাড়া মৌচাক থেকে প্রাপ্ত 'মোম' প্রসাধনী, মোমবাতি এবং ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
জীববৈচিত্র্য রক্ষা: মৌমাছি বুনো ফুল ও গাছপালার পরাগায়ন ঘটিয়ে প্রাকৃতিক বনাঞ্চল গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এই বনগুলো কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে পরিবেশকে শীতল রাখে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: মৌমাছি পালন বা মৌ-চাষ বর্তমানে একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। মধু ও রাজকীয় জেলি (Royal Jelly) বিক্রি করে অনেক মানুষ স্বাবলম্বী হচ্ছে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে: আয়ুর্বেদ ও আধুনিক চিকিৎসায় মধুর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এমনকি মৌমাছির বিষ (Bee Venom) বাতের ব্যথাসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
মৌমাছি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মৌমাছি দিবস পালন করা হয়।