শিরোনাম
জীতেন বড়ুয়া, বাসস
প্রকাশ: ২০:১১, ১৫ মার্চ ২০২৬
এক সময়ে পাহাড়ে একশ প্রজাতিরও বেশি বুনো অর্কিডের দেখা মিললেও এখন নিঃশেষের পথে। ছবি : বাসস
পার্বত্য চট্টগ্রামে বন উজাড়ে জীববৈচিত্র্য নষ্টের পাশাপাশি হারিয়ে যাচ্ছে মাতৃবৃক্ষসহ অনেক মূল্যবান বনজ সম্পদ। বিশেষ করে এর একটি হচ্ছে অর্কিড। এক সময়ে পাহাড়ে একশ প্রজাতিরও বেশি বুনো অর্কিডের দেখা মিললেও এখন নিঃশেষের পথে।
পরাশ্রয়ী এসব উদ্ভিদ অর্থনৈতিক এবং ঔষধিগুণে ভরপুর হলেও সচেতনতার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই অর্কিড রক্ষায় খাগড়াছড়িতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করছেন কয়েক জন তরুণ। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড় থেকে বিপন্ন প্রজাতির অকির্ড এর জাত সংগ্রহ করেছেন তারা। কোন বাণিজ্যিক উদ্দ্যেশে নয়, পাহাড়ের হারিয়ে যাওয়া অকির্ড রক্ষায় এমন উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। তবে বুনো অর্কিড রক্ষা ও সংগ্রহশালা নির্মাণের পরিকল্পনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বনবিভাগ।

এক সময় পাহাড় ছিল সবুজ বনানীতে ঘেরা। কিন্তু জুম চাষের নামে আগুন দিয়ে বনজ সম্পাদ পুড়িয়ে ধ্বংস ও পাচারকারীদের কবলে পড়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে বন উজাড়ে জীববৈচিত্র্য নষ্টের পাশাপাশি হারিয়ে যাচ্ছে মাতৃবৃক্ষসহ অনেক মূল্যবান বনজ সম্পদ। এর একটি অর্কিড। কিন্তু স্থানীয়দের কাছে সচেতনতার অভাবে নির্বিচারে বন উজাড় ও পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে নিঃশেষ হতে বসেছে শতাধিক প্রজাতি। তবে সৌন্দর্যবর্ধন ও ঔষধিগুণ সম্পন্ন মূল্যবান এ বনজ সম্পদের গুরুত্ব অনুধাবন হচ্ছে কারো কারো।
বিগত ৭ থেকে ৮ বছর ধরে অর্কিড সংগ্রহ করছেন খাগড়াছড়ির কয়েকজন অর্কিডপ্রেমী। তাদের মধ্যে অন্যতম খাগড়াছড়ি শহরের নারায়খাইয়া গ্রামের বাসিন্দা ভবেশ মিত্র চাকমা ও রাজ্যমনি বাসিন্দা পাড়ার সাথোয়াই মারমা। এরা নিজেদের উদ্যোগে বসতবাড়ির আঙ্গিনায় গড়ে তুলেছেন অর্কিডের সংগ্রহশালা। জেলা সদরের রাজ্যমনি পাড়ার বসতবাড়ির আঙ্গিনা জুড়ে গড়ে তোলা সংগ্রহশালায় রয়েছে ড্যান্সিং লেডি, ডেন্ড্রোবিয়াম, একেম্পে, এরাইডিশ, এরিয়া টেমেন টোসাসহ ৬০ প্রজাতির বেশি অর্কিডের। গাছের ডালপালা, দেয়াল ও টবে শোভা পাচ্ছে হরেক রকমের ফুল। অর্কিডের অর্থনৈতিক ও বহুমুখী উপকারিতা জনগণের কাছে তুলে ধরার আগ্রহের পাশাপাশি বনজ সম্পদ সংরক্ষণে আইনকে আরও যুগোপযোগী করার দাবি তার।
খাগড়াছড়ির সৌখিন অর্কিড সংরক্ষক, সাথোয়াই মারমার সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এক সময় পাহাড়ের বড় বড় গাছে অর্কিড দেখা গেলেও তা আজ বিলুপ্ত।
আমাদের দেশীয় অর্কিড যাতে হারিয়ে যেতে না পারে সেজন্য সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতা পাওয়া গেলে অর্কিড নিয়ে অনেকেই এ কাজে এগিয়ে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।
খাগড়াছড়ির প্ল্যানটেশন ফর ন্যাচার এর প্রতিষ্ঠাতা, প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, আমাদের দেশে ১৪০-১৫০ প্রজাতির বন্য অর্কিড পাওয়া যেত, এখন তেমন একটা দেখা মিলে না। দুষ্প্রাপ্য অর্কিড রক্ষায় স্থানীয় ক’জন সৌখিন অর্কিড সংরক্ষক তাদের নিজস্ব জায়গায় নিজ উদ্যেগে অর্কিড সংরক্ষণের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা খুবই প্রশংসনীয়।
এমন উদ্যোগের কারণে পাহাড়ের হারিয়ে যাওয়া বুনো অর্কিড রক্ষায় অনেকে উৎসাহিত হবেন। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতা পেলে অর্কিড নিয়ে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন অনেকে।
খাগড়াছড়ির বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিয়া জানান, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মূল্যবান এই বনজ সম্পদ রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
বর্তমানে অর্কিড সংরক্ষণে বন বিভাগের কোন কর্মসূচি আপাতত না থাকলেও বুনো অর্কিড ও ক্যাকটাস নিয়ে কাজের পরিকল্পনা রয়েছে বন বিভাগের।
তিনি জানান, পাঁচ বছর মেয়াদী একটি প্রকল্পের মাধ্যমে বুনো অর্কিড ও ক্যাকটাস নিয়ে কাজের একটি পরিকল্পনা প্রনয়ণ করা হচ্ছে।