শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ২২:১৩, ১১ মার্চ ২০২৬
বুধবার আগারগাঁওয়ে বন ভবনে ‘বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’ নামে পাঁচ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
এই মিশনের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনে ‘বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ বছরের দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল— ‘ভেষজ ও সুগন্ধি উদ্ভিদ সংরক্ষণ: স্বাস্থ্য, ঐতিহ্য ও জীবিকার উন্নয়ন’।
পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে, যাতে জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। একই সঙ্গে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক ও শিল্পকারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক ধীরে ধীরে নিষিদ্ধ করে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবস্থা চালু করা হবে।’
পরিবেশ রক্ষায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গৃহীত উদ্যোগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘১৯৭৭ সালে শুরু হওয়া এনভায়রনমেন্ট পলিউশন কন্ট্রোল প্রজেক্টের ধারাবাহিকতায় আজকের বন অধিদপ্তর। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন করতে স্কুল পাঠ্যক্রমে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ রক্ষাকে রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করেছেন।’
আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, উপকূলীয় চরাঞ্চলে প্রায় ২০০ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগান এবং সামাজিক বনায়নের আওতায় সড়ক ও বাঁধে ১১ লাখ চারা রোপণ করা হবে। তিনি দেশবাসীকে বসতবাড়িতে বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ সম্পদ রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার অবিলম্বে বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সকল মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন পরিবেশ সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ এবং আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা এস হোসেন।
বিষয় ভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন এবং উপপ্রধান বন সংরক্ষক মো. জাহিদুল কবির।
অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।