শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫:২৩, ১১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৫:২৫, ১১ মার্চ ২০২৬
নেপালে সাম্প্রতিক নির্বাচনে বড় ধরণের বিজয় অর্জন করেছে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি। পার্টির চেয়ারম্যান হলেন রবি লামিছানে। ছবি: সংগৃহীত।
নেপালে সাম্প্রতিক নির্বাচনে নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (RSP) সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর তাদের ঘোষিত ‘উন্নয়ন কূটনীতি’ (Development Diplomacy) নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারত, চীন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে কীভাবে কোনো রাজনৈতিক শর্ত ছাড়াই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ, খবর কাঠমান্ডু পোস্টের।
নির্বাচনী জয়ের পর আরএসপির চেয়ারম্যান রবি লামিছানে স্পষ্ট করেছেন যে, তার সরকার কোনো নির্দিষ্ট ব্লকের দিকে না ঝুঁকে একটি নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে। এর মূল লক্ষ্য হবে ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে শুধুমাত্র নেপালের উন্নয়নের জন্য বিদেশি সহায়তা গ্রহণ করা।
বলা হচ্ছে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে শিক্ষা, আইটি, কৃষি এবং স্বাস্থ্য প্রকল্পের মতো সামাজিক ও পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে:রবি লামিছানের
শর্তহীন সহায়তা: কোনো দেশের সামরিক বা কৌশলগত স্বার্থের কাছে মাথা নত না করে বিনিয়োগ গ্রহণ।
বিতর্ক এড়ানো: অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ করপোরেশন, চীনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা ভারতের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে নেপালে নানা রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছে। আসএসপি চায় এমন বিনিয়োগ যা দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত করবে না।
অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা
আরএসপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কিছু উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যেমন, বার্ষিক প্রবৃদ্ধি: ৭% প্রবৃদ্ধি অর্জন, আগামী ৫ বছরে মাথাপিছু আয় ৩,০০০ ডলারের উপরে নিয়ে যাওয়া।
অর্থনীতির আকার: নেপালের অর্থনীতিকে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে রবি লামিছানে বিশেষ নীতিমালা এবং বিনিয়োগের পূর্ণ সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ব্যবসা সহজীকরণ এবং আর্থিক খাতের সংস্কারের মাধ্যমে বিদেশি পুঁজি আকর্ষণ করাই তাদের প্রধান পরিকল্পনা।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
নেপালের মতো ছোট রাষ্ট্রগুলোর জন্য ভারত ও চীনের মতো বিশাল প্রতিবেশীদের এবং পশ্চিমা শক্তির প্রভাবের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সবসময়ই কঠিন। RSP-র এই "উন্নয়ন কূটনীতি" সফল হলে তা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি নতুন উদাহরণ হতে পারে, যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্য থাকবে প্রধান, রাজনীতি নয়।
আরএসপি-র (RSP) এই "উন্নয়ন কূটনীতি" মূলত নেপালের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। উন্নয়ন কূটনীতির প্রয়োগ ও লক্ষ্য
রবি লামিছানে এবং তার দল আরএসপি (RSP) স্পষ্ট করেছে যে, তারা কেবল কথার রাজনীতি নয়, বরং বিদেশি বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সমন্বয় করতে চায়। তারা জাতিসংঘ (UN), বিশ্বব্যাংক (World Bank), আইএমএফ (IMF) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (ADB) মতো সংস্থাগুলোর সাথে প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে কাজ করতে চায়।
বেসরকারি খাতের সুরক্ষা: অভ্যন্তরীণ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ এবং লাভজনক পরিবেশ তৈরি করা।
ভারত ও চীনের সাথে নতুন সমীকরণ
আরএসপি-র লক্ষ্য হলো দুই প্রতিবেশী দেশের সফল মডেলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া:
ভারত: প্রথাগত সাংস্কৃতিক বা ঐতিহাসিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে ভারতের গত দশকের অর্থনৈতিক রূপান্তরকে কাজে লাগানো। বিশেষ করে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, উচ্চগতির ভৌত অবকাঠামো এবং উৎপাদন খাতের উন্নয়ন থেকে শিক্ষা নেওয়া।
চীন: চীনের কাছ থেকে বিশ্বমানের অবকাঠামো তৈরির জন্য সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণ এবং তাদের আঞ্চলিক উন্নয়ন মডেল (inter-provincial competition) অনুসরণ করা।
প্রায়োগিক ক্ষেত্রসমূহ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কূটনীতি কেবল দলিলে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর আওতায় থাকবে:
জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও সড়ক যোগাযোগ, সীমান্ত অবকাঠামো এবং বাণিজ্য বৃদ্ধি, কারিগরি শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিনিময় কর্মসূচি ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি।
মূল চ্যালেঞ্জ ও কৌশল
পেইচিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আনেকা রেবেকা রাজভাণ্ডারীর মতে, "উন্নয়ন কূটনীতি" এবং "উন্নয়ন সহযোগিতা" (Development Cooperation) মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তবে আরএসপি-র জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে তারা ঠিক কোন খাতে (মানবসম্পদ নাকি অবকাঠামো) বেশি গুরুত্ব দেবে, তা দ্রুত নির্ধারণ করা।
আরএসপি নেপালকে একটি আত্মবিশ্বাসী এবং উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, যেখানে উন্নয়নই হবে সব সম্পর্কের ভিত্তি—রাজনৈতিক স্বার্থ নয়।