ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

আর্টেমিস ২-এর নভোচারীদের ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযান শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১:৩৬, ২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫১, ২ এপ্রিল ২০২৬

আর্টেমিস ২-এর নভোচারীদের ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযান শুরু

ছবি: সংগৃহীত।

আর্টেমিস ২-এর নভোচারীরা তাদের ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযান শুরু করেছেন। প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানের লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে অবতরণের পথ প্রশস্ত করা।

দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর বুধবার চারজন নভোচারী চাঁদের অভিমুখে এই ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করলেন। ৩২ তলা বিশিষ্ট একটি রকেটে করে তিনজন মার্কিন ও একজন কানাডীয় নভোচারী নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উড্ডয়ন করেন, খবর ইউরো নিউজের।

এই দৃশ্য দেখতে সেখানে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেছিলেন। পার্শ্ববর্তী রাস্তা ও সৈকতগুলোতেও ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়, যা ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকের অ্যাপোলো অভিযানের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। চাঁদে স্থায়ী আবাসন গড়ার লক্ষ্যে এটি নাসার সবথেকে বড় পদক্ষেপ।

উজ্জ্বল কমলা রঙের স্যুটে সজ্জিত এই দলে রয়েছেন মার্কিনী রেইড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডীয় জেরেমি হ্যানসেন। উড্ডয়নের পাঁচ মিনিট পর কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান ক্যাপসুল থেকে জানান, "আমরা একটি সুন্দর চন্দ্রোদয় দেখতে পাচ্ছি, আমরা সরাসরি সেদিকেই যাচ্ছি।"

এ বছরের শুরুর দিকে কাউন্টডাউন পরীক্ষার সময় হাইড্রোজেন লিক হওয়ার কারণে এই যাত্রা দীর্ঘ সময় বিলম্বিত হয়েছিল। তবে নাসার স্বস্তির বিষয় হলো, এবার কোনো বড় ধরনের হাইড্রোজেন লিক ছাড়াই ৩২ তলা বিশিষ্ট স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) রকেটে ২৬ লক্ষ লিটারেরও বেশি জ্বালানি সফলভাবে লোড করা হয়। যদিও শেষ মুহূর্তে ব্যাটারি সেন্সর ও কমান্ড সিস্টেমে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, তবে তা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সব ঠিক থাকলে, এই নভোচারীরা পৃথিবী থেকে অন্য যে কোনো মানুষের চেয়ে সবথেকে দূরবর্তী স্থানে যাওয়ার রেকর্ড গড়বেন। ১৯৬৮ সালের অ্যাপোলো ৮-এর মতো তারা চাঁদের কক্ষপথে ঘুরবেন না, বরং চাঁদকে অতিক্রম করে আরও ৬,৪০০ কিলোমিটার গভীরে যাবেন। এরপর সেখান থেকে ইউ-টার্ন নিয়ে সরাসরি প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবেন।

এই অভিযানটি বেশ কিছু মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এটিই প্রথম মিশন যেখানে একজন কৃষ্ণাঙ্গ, একজন নারী এবং একজন অ-মার্কিন নাগরিক চাঁদে যাচ্ছেন। এছাড়া এটি নাসার নতুন চন্দ্র রকেট এসএলএস-এর প্রথম মানববাহী ফ্লাইট। অ্যাপোলো অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে দৌড়ে জেতা, কিন্তু আর্টেমিস মিশনের লক্ষ্য হলো চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করা, যা ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণার প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

নাসার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেন, "নাসা আবার চাঁদে নভোচারী পাঠানোর ব্যবসায় ফিরে এসেছে।" এই অভিযানকে চীনের সাথে মহাকাশ প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে, কারণ চীন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ২০২৯ সালের মধ্যে চাঁদে অবতরণের জন্য এই কর্মসূচির গতি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

যদিও ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে অবতরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ সংশয় প্রকাশ করেছেন, কারণ নাসা এই প্রজেক্টে বেসরকারি খাতের প্রযুক্তির ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সাফল্যকে আমেরিকার আধিপত্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা এখন ১০ দিনের এই পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের প্রথম ২৫ ঘণ্টা পৃথিবীর কক্ষপথেই ক্যাপসুলটি পরীক্ষা করবেন, এরপর মূল ইঞ্জিন চালুর মাধ্যমে চাঁদের দিকে পাড়ি দেবেন। চার দিন পর যখন তারা চাঁদের পাশ দিয়ে যাবেন, তখন চাঁদকে তাদের কাছে হাতের মুঠোয় থাকা বাস্কেটবলের মতো মনে হবে। সব ঠিক থাকলে তারা এমন সব দৃশ্য দেখতে পাবেন যা আগে কোনো মানুষের চোখ দেখেনি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন