ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

চীনা বিজ্ঞানীদের জৈবদ্যুতি বা বায়োলুমিনেসেন্ট গাছ আবিষ্কার

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২:০১, ২ এপ্রিল ২০২৬

চীনা বিজ্ঞানীদের জৈবদ্যুতি বা বায়োলুমিনেসেন্ট গাছ আবিষ্কার

প্রতিনিধিত্বশীল ছবি: সংগৃহীত।

চীনা বিজ্ঞানীরা জিন-এডিটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এমন এক ধরনের উদ্ভিদ তৈরি করেছেন যা অন্ধকারে উজ্জ্বল আলো ছড়াতে সক্ষম। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার নগর আলোকসজ্জা, পর্যটন এবং টেকসই নকশার ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

জোনাকি পোকা এবং উজ্জ্বল ছত্রাকের আলো উৎপন্নকারী জিন সফলভাবে উদ্ভিদের কোষে স্থানান্তরের মাধ্যমে এই বায়োলুমিনেসেন্ট বা স্ব-আলোকিত গাছগুলো তৈরি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত অর্কিড, সূর্যমুখী এবং চন্দ্রমল্লিকাসহ ২০টিরও বেশি প্রজাতির উদ্ভিদকে রাতে উজ্জ্বলভাবে জ্বলে ওঠার জন্য তৈরি করা হয়েছে, খবর ইউরো নিউজের।

ম্যাজিকপেন বায়ো-র প্রতিষ্ঠাতা এবং চায়না এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গ্র্যাজুয়েট ড. লি রেনহান জানান, শৈশবের জোনাকির আলো দেখার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই গবেষণায় অনুপ্রাণিত হন। তিনি বলেন, "আমরা জোনাকির মতো প্রাণীদের জিন উদ্ভিদে স্থানান্তর করতে চেয়েছিলাম যাতে সেগুলোও রাতে জ্বলতে পারে। এটি অনেকটা বাস্তবেই পৃথিবীর বুকে 'অ্যাভাটার' জগতকে নিয়ে আসার মতো।"

সম্প্রতি ঝংগুয়ানচুন ফোরামে এই উদ্ভিদগুলোর কার্যকারিতা প্রদর্শন করা হয়, যেখানে কোনো বাহ্যিক বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই ফুলগুলোকে দৃশ্যমান আলো ছড়াতে দেখা যায়। ড. লি-র মতে, এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা কেবল সৌন্দর্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই উদ্ভিদগুলো বিদ্যুৎ ছাড়াই উদ্যান এবং পাবলিক স্পেসগুলোতে আলোর ব্যবস্থা করতে পারে, যার জন্য কেবল পানি এবং সারের প্রয়োজন হবে। এটি শক্তি সাশ্রয় করার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমাতেও সহায়ক হবে।

আলো ছড়ানোর পাশাপাশি এই জিন-এডিটিং প্রযুক্তি বিজ্ঞানের অন্যান্য ক্ষেত্রেও অবদান রাখছে। এটি কোষের পর্যায়ে রোগের বিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে নতুন ওষুধ আবিষ্কার এবং উন্নত চিকিৎসার পথ প্রশস্ত করছে। কৃষি ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধানের ক্ষতিকারক জিন পরিবর্তনের মাধ্যমে পোকামাকড় প্রতিরোধী জাত তৈরি করা হয়েছে, যা বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন