শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬:১১, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৬:১৫, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত।
বেসামাল ভিড়ে ঠাসা বাসটি যখন খাদে পড়ে যাচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন। এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে পুর্চৌড়ি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভাউনি গ্রাম এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায় ডুবে আছে। যে গ্রামটি কয়েক ঘণ্টা আগেও বিয়ের বাদ্যি, হাসি আর আনন্দে মুখরিত ছিল, বিয়ের যাত্রীবাহী বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ার পর সেখানে এখন কেবলই শোকের ছায়া, খবর কাঠমান্ডু পোস্টের।
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে ফেরার পথেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাজহাং জেলার বিটঠাদচির গ্রামসভা থেকে একটি বাস এবং একটি জিপ পুর্চৌড়ির গিরঝাবাগর বাস পার্কে এসে পৌঁছায়। বাস পার্ক থেকে ১০ মিনিটের হাঁটা পথ পেরিয়ে ভাউনি গ্রামে বিয়ের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এরপর কনেকে নিয়ে দলটি পুনরায় বাস পার্কের দিকে ফিরে আসে। ফেরার পথে স্থানীয় কিছু মানুষও বাসে উঠে পড়েন।
বর, কনে এবং কনের ভাইসহ কয়েকজন অতিথি জিপে ছিলেন। অন্যদিকে, বাসটি যাত্রী ও স্থানীয়দের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। জায়গায় সংকুলান না হওয়ায় কনের কাকা অমররাজ জোশী পেছনের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
জোশী বলেন, "বাসটি পুরোপুরি ভর্তি ছিল। পথে কয়েকজন যাত্রীর নেমে যাওয়ার কথা ছিল, তাই আমি দরজার পাশেই দাঁড়িয়েছিলাম।"
গিরঝাবাগর থেকে প্রায় ৮-৯ কিলোমিটার দূরে বাদগাও এলাকায় পৌঁছালে পরিস্থিতি হঠাৎ বদলে যায়। জোশী বলেন, "বাঁক ঘোরার সময় আমি অনুভব করলাম বাসটির গতি কিছুটা কমে গেছে। বাইরে তাকিয়ে দেখি বাসটি পেছনের দিকে গড়িয়ে রাস্তার ধারের দিকে যাচ্ছে। বাসটি পড়ে যাচ্ছে বুঝতে পেরে আমি দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা অন্যদের ধাক্কা দিয়ে নিজেই নিচে ঝাঁপ দিই।"
তিনি রাস্তার পাশে পড়ে গিয়ে প্রায় ১৫ মিটার নিচে গড়িয়ে যান এবং একটি গাছ আঁকড়ে ধরতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, "ওই গাছটিই আমার প্রাণ বাঁচিয়েছে। যখন আমার জ্ঞান ফেরে, তখন দেখি আমাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে।"
কিছুক্ষণ পরেই তিনি সেই হৃদয়বিদারক খবরটি পান—দুর্ঘটনায় অনেক অতিথি মারা গেছেন। জোশী আক্ষেপ করে বলেন, "সেই দৃশ্য এখনো আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। এমনটা হওয়া উচিত ছিল না। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।"
জেলা পুলিশ কার্যালয়, বৈতাদী তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মৃতের সংখ্যা ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।