ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২৭ মাঘ ১৪৩২, ২১ শা'বান ১৪৪৭

শিরোনাম

Scroll
জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে সকল ওয়াদা বাস্তবায়নের জন্য দোয়া, সমর্থন, ভোট চাইলেন তারেক রহমান
Scroll
শেষ মুহূর্তের প্রচারণা: বিএনপি-এর দূর্গে হানা দিতে চায় জামায়াত
Scroll
কেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহারে বাধা না থাকলেও গোপন কক্ষে নিষিদ্ধ : ইসি
Scroll
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন
Scroll
নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার সকাল ৭:৩০ মিনিটে
Scroll
সিলেট-১ এর জামায়াত প্রার্থী হাবিবুর : মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলবো
Scroll
সিলেট: উন্নয়ন পরিকল্পনায় কর্মসংস্থান আগে, বললেন বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
Scroll
বিএনপির ভবিষ্যতের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে: তারেক রহমান
Scroll
প্রতিরক্ষা খাত: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আধিপত্যের কারণে ইইউ স্বনির্ভরতা চায়
Scroll
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো কম্প্রোমাইজ করবে না বিএনপি: তারেক রহমান
Scroll
১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সভা ও মিছিল নিষিদ্ধ করেছে ইসি
Scroll
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম-খুনের মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ
Scroll
সাংবাদিক শ্যামল দত্ত ও মোজাম্মেল বাবুর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
Scroll
সংসদ নির্বাচন: মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে মোটর সাইকেল চলাচল নিষেধ
Scroll
থাইল্যান্ড: রক্ষণশীল দলের অনুতিন চার্নভিরাকুল নতুন সরকার গঠন করবেন
Scroll
পত্রিকা: ’শেষবেলায় চুক্তি-কেনাকাটার হিড়িক’
Scroll
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে অর্থনীতি কতটা পাল্টালো?
Scroll
নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা
Scroll
রাষ্ট্র পুনর্গঠনই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য: তারেক রহমান
Scroll
মুসলিম বিশ্বকে শিক্ষায় আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বাধীন সাংবাদিকতাই সরকারকে সত্য কথা বলে: মাহফুজ আনাম

সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য থাকাটা জরুরি: মতিউর রহমান

প্রথম আলোর সৌজন্যে

প্রকাশ: ১৩:৫৩, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৫৯, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য থাকাটা জরুরি: মতিউর রহমান

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। ছবি: সংগৃহীত।

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেছেন, 'সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য থাকাটা জরুরি। যেকোনো বিষয়ে, যেকোনো সময়, যেকোনো বিরোধই ক্ষতিকারক।’

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে গণমাধ্যম সম্মিলনে মতিউর রহমান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং সম্পাদক পরিষদ।

সম্মিলনে পত্রিকা, অনলাইন, টেলিভিশন, সাংবাদিক ইউনিয়নের এক জায়গায় একত্র হওয়ার বিষয়টিকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন মতিউর রহমান। তিনি বলেন, 'এটা বিগত ৫৫ বছর বলেন, ১৫ বছর বলেন, এ সময়ের মধ্যে এটা একটা বড় অগ্রগতি, বড় ভাবনা, বড় চিন্তা।'

প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, ‘যে মতের, যে চিন্তার, যে ভাবনার, যে আদর্শের হোক না কেন, সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ইত্যাদিসহ সব বিষয়ে আমাদের ঐক্য থাকতে হবে, সমঝোতা থাকতে হবে এবং আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।'

মতিউর রহমান বলেন, 'এই যে সমবেত হওয়া, ঐক্য থাকা, ঐক্যবদ্ধ থাকা, একত্রিত হওয়া, একে অপরের পাশে থাকা, একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রতি সংহতি সহানুভূতি জানানো এটা খুবই জরুরি।’ তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের ভাবার কোনো কারণ নাই, আগামী সরকার, নির্বাচিত সরকার আসলেই আমাদের সবকিছু আমরা পেয়ে যাব। অতীতেও হয়নি, এখনো হবে না। 'সাংবাদিক শফিক রেহমানের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে মতিউর রহমান বলেন, 'আমার ব্যক্তিগত জীবনের ৫৫ বছর, শফিক (শফিক রেহমান) ভাইয়ের জীবনের আরও অনেক বেশি বছর কোনো সরকার, কোনোসময় যায়নি যে, আমাদের ওপরে কোনো না কোনোভাবে হয় ডিক্লারেশন বন্ধ... ১৯৭৫ সালে তো সব পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেল। একটা প্রথম বড় রকমের স্বৈরতান্ত্রিক পদক্ষেপ ছিল বাংলাদেশের কোনো এক সরকারের বা বিশেষ করে স্বাধীনতার পরের সরকারের পক্ষ থেকে। এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য ছিল না। তার পরবর্তী সামরিক শাসন, গণতান্ত্রিক শাসন সব আমলেই আমাদের প্রায় একই রকম অভিজ্ঞতা ছোট, বড়, মাঝারি রকমের।'

অতীতের কাজ নিয়ে অনেক বেশি আলোচনা করার সুযোগ আছে বলেন মতিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘অনেক দেরিতে হলেও এই তর্কগুলো, বিতর্কগুলো অনেক বিলম্ব হলেও এখন হচ্ছে এবং কিছু পরিবর্তনের লক্ষ্য আমরা দেখছি। আমরা কিছু উদ্যোগও নিচ্ছি এবং তার মধ্যে আজকের সমাবেশও তার একটা প্রধান লক্ষ্য।' ঐক্য, সমঝোতা এবং সংহতি এই সময়ে আগামী দিনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলে উল্লেখ করেন মতিউর রহমান।

একমাত্র স্বাধীন সাংবাদিকতাই সরকারকে সত্য কথা বলে: মাহফুজ আনাম

একই অনুষ্ঠানে ডেইলী স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করলে, সত্যিকার অর্থে সেই উদারপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি রাখলে সরকারই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। 

মাহফুজ আনাম বলেছেন, 'সরকার, আপনি মনে রাখবেন, আপনাকে কেউ সত্য কথা বলবে না। আপনার দলীয় লোকেরা বলবে না ভয়ে এবং আপনার সরকারের ব্যুরোক্রেসি বলবে না। আপনার সরকারের ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটি বলবে না। তারা সব সময় আপনাকে প্রশংসার মধ্যে প্রশংসার জগতে আবদ্ধ রাখবে। স্বাধীন সাংবাদিকতা হচ্ছে একমাত্র প্রতিষ্ঠান, আপনাকে সত্য কথা বলে।'

মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সংগঠিত হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে আয়োজিত 'গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬'-এ এসব কথা বলেন মাহফুজ আনাম।

সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, বাজেট নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন তথ্য স্বাধীন সাংবাদিকতার মাধ্যমে উঠে আসে উল্লেখ করে মাহফুজ আনাম বলেন, 'আপনি যে প্রোগ্রাম নিয়েছেন, আপনি যে প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছেন—এটা কি সঠিক? এটা কি জনগণ গ্রহণ করছে? এটা কি করাপশনের (দুর্নীতি) মধ্যে ডুবে যাচ্ছে না? এ কথা আপনাকে কে বলবে?'

ডেইলি স্টার সম্পাদক বলেন, 'সরকার আপনি যে বাজেট নিয়ন্ত্রণ করেন—লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট। আপনি একমুহূর্তের জন্য মনে করবেন না, এই টাকা আপনার। এই টাকা হচ্ছে ট্যাক্স পেয়ারদের, এই টাকা হচ্ছে জনগণের। আপনি কীভাবে সেটা ব্যবহার করছেন, অবশ্যই আপনাকে আমরা সমর্থন করব যেখানে সুন্দর সঠিক গণতান্ত্রিক এবং প্রো পিপল প্রজেক্ট হবে, কিন্তু ওই প্রজেক্ট যদি করাপশনের মূল জায়গা হয়ে যায়, এ কথা কিন্তু আপনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতা বলবে।'

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুনভাবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার সুযোগ এসেছে উল্লেখ করে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘জবাবদিহিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে। একইভাবে সাংবাদিকতার একটা নতুন গণতান্ত্রিক, বলিষ্ঠ ন্যায়পরায়ণ, এথিক্যাল জার্নালিজম করার একটা সময় এসছে।' সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে সাংবাদিকতা পেশাকে আরও বেশি জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।

মাহফুজ আনাম বলেন, সাংবাদিকতা শুধু একটি চাকরি নয়; এটি মূলত একটি সমাজসেবামূলক পেশা। গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, বৈষম্য দূরীকরণ এবং সব ধর্ম ও গোষ্ঠীর মানুষের সমান অধিকারের পক্ষে কাজ করাই সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র।

ডেইলি স্টার সম্পাদক বলেন, সংবিধানে মাত্র দুটি পেশাকে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে—স্বাধীন বিচার বিভাগ ও স্বাধীন গণমাধ্যম। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, যেসব সমাজে সাংবাদিকতা শক্তিশালী ও স্বাধীন, সেসব সমাজে গণতন্ত্র সুদৃঢ় হয় এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

নিজেদের পেশাগত নৈতিকতা সম্পর্কে সাংবাদিকদের উদ্দেশে মাহফুজ আনাম বলেন, 'আমরা যারা সাংবাদিকতায় এসেছি, এই উপলব্ধিতা আমাদের থাকতে হবে। আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে, আমাদের সামাজিক জীবনে সততা, নিষ্ঠা এবং সঠিক, স্বাধীন সাংবাদিকতা করার যে মৌলিক, যে এথিক্যাল ভ্যালু, আমি অনুরোধ করব, আপনারা সেটাকে নিজের জীবনে, নিজের চেতনায় সব সময় ধরে রাখবেন। কেননা আমরা সাংবাদিক হয়ে যদি এই মূল্যবোধের পেছনে না থাকি; তাহলে সমাজ কিন্তু আমাকে সেই সমাধান করবে না।'

সম্পাদকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে মাহফুজ আনাম বলেন, সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠান ও সম্পাদকের আচরণ সরাসরি প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রভাবিত করে। কোনো সম্পাদক নৈতিকতার বিচ্যুতি ঘটালে শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো প্রতিষ্ঠান এবং পেশাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর মতে, সম্পাদকের নৈতিক দায় অন্য যেকোনো পেশার তুলনায় বেশি।

 

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন