শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯:৪৫, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ২০:৪৯, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
ছুটির মৌসুমের শুরুতে বিভিন্ন ছাড় বা ডিসকাউন্ট কেনাকাটাকে প্রভাবিত করলেও, বড়দিন মৌসুমের শেষের দিকে ক্রেতারা এখন আরও চিন্তাশীল এবং মানসম্মত উপহারের দিকে ঝুঁকছেন। যদিও এই সময়ে সামগ্রিক খরচ বৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হয়ে এসেছে।
অ্যাডোবি অ্যানালিটিকস অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা অনলাইনে ১৮৭.৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.১% বেশি। আশা করা হচ্ছে, পুরো মৌসুমে ই-কমার্স কেনাকাটা ২৫৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে, খবর সিএনবিসি’র।
তবে, ডিসেম্বরের শেষের দিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি পাওয়ার অনিশ্চয়তার কারণে কেনাকাটার গতি কিছুটা কমে আসে।
শিপবব-এর চিফ মার্কেটিং অফিসার ক্যাসি আর্মস্ট্রং সিএনবিসি-কে জানিয়েছেন, সাধারণত ১৬ থেকে ১৮ ডিসেম্বরের পর ই-কমার্স বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং ক্রিসমাস ইভ বা বড়দিনের আগের দিনটি হয় মৌসুমের সবচেয়ে কম কেনাকাটার দিন। তবে ২৭ ডিসেম্বর থেকে আবার কেনাকাটা বাড়তে শুরু করে।
ক্যাপটিফাই-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে অ্যালো ইয়োগা, ওয়ারবি পার্কার, আরিৎজিয়া, বোম্বাস এবং কুইন্স-এর মতো নামী ব্র্যান্ডগুলোর সার্চ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। যেমন, ৭ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে অ্যালো ইয়োগার সার্চ বেড়েছে ২৫৬% এবং কুইন্স-এর সার্চ বেড়েছে ১২৪%।
ক্যাপটিফাই-এর ইউএস ইনসাইটস প্রধান অস্কার চাউ বলেন, এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে ক্রেতারা এখন নামী ব্র্যান্ডের মানসম্মত উপহার দিতে বেশি আগ্রহী। রিটেইল নেক্সট-এর জো শাস্টিনও একই মত দিয়ে বলেন যে, ক্রেতারা সঠিক জিনিসটি কেনার জন্য প্রয়োজনে বেশি টাকা খরচ করতেও রাজি আছেন।
এছাড়া মৌসুমের শেষের দিকে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা এবং সাবস্ক্রিপশন উপহার দেওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেমন রোবলক্স রোবাক্স, কিন্ডল আনলিমিটেড, স্ট্রাভা, পেলোটন, মাস্টারক্লাস এবং ডিজনি প্লাস বা এইচবিও ম্যাক্স-এর মতো সাবস্ক্রিপশনগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, কারণ এগুলো ডেলিভারি নিয়ে কোনো ঝামেলা নেই।
যদিও সাইবার উইকের তুলনায় এখন ডিসকাউন্ট অনেক কম, তবুও খেলনা, ফার্নিচার বা টেলিভিশনের মতো কিছু পণ্যে এখনো ১০% থেকে ১৫% পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে খেলনার বাজারে বার্বি ড্রিমহাউস, স্টিচ টয় বা প্লে-ডোহ্ সেটের মতো জনপ্রিয় আইটেমগুলোর জন্য এখনো অনেক ক্রেতা ভিড় করছেন। তবে যারা সরাসরি হাতে উপহার দিতে চান, তাদের জন্য ক্রিসমাসের ঠিক আগের দিনগুলোতে ফিজিক্যাল স্টোর বা দোকানগুলোই এখন প্রধান ভরসা।
খুচরা বিক্রেতা খাতে ক্রিসমাসের আগের শেষ শনিবারকে "সুপার স্যাটারডে" বলা হয় এবং এটি বছরের অন্যতম প্রধান কেনাকাটার দিন হিসেবে পরিচিত। তবে এ বছর ক্রিসমাস বৃহস্পতিবার হওয়ায় রিটেইল নেক্সট-এর ধারণা অনুযায়ী সুপার স্যাটারডে-র তুলনায় ২২ থেকে ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে কেনাকাটার ভিড় বেশি হতে পারে।
রিটেইল নেক্সট-এর শাস্টিন জানান, ক্রিসমাসের ঠিক আগের দিনগুলোতে পণ্য কেনার হার অনেক বেড়ে যাবে, যা ব্ল্যাক ফ্রাইডে-র রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া প্ল্যানালিটিকস-এর ইভান গোল্ডের মতে, এ সপ্তাহের শেষে দেশের অধিকাংশ স্থানে উষ্ণ এবং শুষ্ক আবহাওয়া থাকায় দোকানে ক্রেতাদের সমাগম আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
যেসব ক্রেতা দোকানে ভিড় এড়াতে চান কিন্তু ডেলিভারি পেতে দেরি হওয়ার ভয় পাচ্ছেন, তারা এই শেষ সময়ে অনলাইনে অর্ডার দিয়ে দোকান থেকে পণ্য সংগ্রহের পদ্ধতি বা বিওপিআইএস (BOPIS) বেশি ব্যবহার করছেন। অ্যাডোবি অ্যানালিটিকস-এর তথ্যমতে, ২২ ও ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে অনলাইন অর্ডারের প্রায় ৩২% থেকে ৩৭% এই পদ্ধতিতে সম্পন্ন হতে পারে, যা বছরের অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
কোলস (Kohl's) সিএনবিসি-কে জানিয়েছে যে ক্রিসমাসের আগের সপ্তাহে তাদের স্টোর পিকআপ অর্ডারের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যায়। এছাড়া দোকান থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে আসা প্রতি চারজন ক্রেতার মধ্যে একজন বাড়তি অন্য কিছু কিনে থাকেন। বাথ অ্যান্ড বডি ওয়ার্কস-এর ক্ষেত্রেও দেখা গেছে যে প্রায় ৩০% ক্রেতা স্টোর পিকআপের সময় নতুন কিছু কেনেন।
খুচরা বিক্রেতাদের জন্য এই পদ্ধতিটি খরচ সাশ্রয়ী। টার্গেট (Target) জানিয়েছে, স্টোর পিকআপের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহে তাদের খরচ ডেলিভারি সেন্টারের তুলনায় প্রায় ৯০% কম হয়। এ বছর তাদের ডিজিটাল অর্ডারের তিন-চতুর্থাংশই স্টোর থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
ওয়ালমার্ট জানিয়েছে, গত বছর ক্রিসমাসের আগের দুই সপ্তাহে তাদের শিডিউলড পিকআপের হার সাধারণ সময়ের তুলনায় ১৪% বৃদ্ধি পেয়েছিল। তাদের সাম্প্রতিক গ্রাহক জরিপ অনুযায়ী, ৮০% ক্রেতা ক্রিসমাসের শেষ তিন দিনে সরাসরি দোকানে গিয়ে কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন।
গত ডিসেম্বরে ওয়ালমার্ট এক্সপ্রেস ডেলিভারির (যেখানে অতিরিক্ত ফির বিনিময়ে স্টোরের মজুদ থেকে দ্রুত পণ্য পাঠানো হয়) পরিমাণ মাসিক গড় চাহিদার তুলনায় ২.৫ গুণ বেশি ছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শুধুমাত্র ক্রিসমাস ইভ বা বড়দিনের আগের দিনেই তাদের ৭৭% ডিজিটাল অর্ডার এই এক্সপ্রেস অপশনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ডিক’স স্পোর্টিং গুডস সঠিক সংখ্যা প্রকাশ না করলেও জানিয়েছে যে, ক্রিসমাস যত ঘনিয়ে আসে তাদের দোকানেও 'বিওপিআইএস' (অনলাইনে অর্ডার দিয়ে দোকান থেকে সংগ্রহ) পদ্ধতিতে কেনাকাটা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এছাড়া তারা লক্ষ্য করেছে যে, ক্রেতারা যখন দোকান থেকে তাদের অর্ডার করা পণ্য সংগ্রহ করতে আসেন, তখন শেষ মুহূর্তের প্রয়োজনীয় উপহারগুলোও একই সাথে কিনে নেন।