ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর ট্রাম্পকে ইরানে হামলা না করার অনুরোধ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৩:৪৭, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর ট্রাম্পকে ইরানে হামলা না করার অনুরোধ

ফাইল ছবি, সংগৃহীত।


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের ওপর পরিকল্পিত যেকোনো হামলা স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। ইসরায়েলি এবং আরব কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরান পাল্টা আঘাত হিসেবে তাদের দেশে আক্রমণ করতে পারে।

বৃহস্পতিবার একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সরকার যখন দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে মার্কিন সামরিক হামলার পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, খবর নিউ ইয়র্ক টাইমসের। 

নেতানিয়াহু গত বুধবার ট্রাম্পের সাথে কথা বলেন। ঠিক একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন যে, তিনি "অন্য পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র" থেকে তথ্য পেয়েছেন যে ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বন্ধ করেছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকেও বিরত রয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে, তিনি সম্ভবত ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলা থেকে পিছিয়ে আসছেন, যা নিয়ে তিনি গত কয়েকদিন ধরে চিন্তাভাবনা করছিলেন।

তবে, গত জুনেও ট্রাম্প একই ধরনের অস্পষ্ট সংকেত দিয়েছিলেন, যদিও তখন তিনি হামলার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছিলেন। একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা বুধবার রাতে জানান যে, কমান্ডাররা গত কয়েক দিনে ট্রাম্পের কাছে যেসব সামরিক বিকল্প উপস্থাপন করেছেন, তিনি সেগুলো পুরোপুরি বাতিল করে দেননি। হামলা হবে কি না, তা নির্ভর করছে বিক্ষোভ দমনে ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

আরব দেশগুলোর ভূমিকা
উপসাগরীয় একটি আরব দেশের কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে— কাতার, সৌদি আরব, ওমান এবং মিশর—যারা সবাই ওয়াশিংটনের সহযোগী, তারাও ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানে হামলা না করার অনুরোধ জানিয়েছে। গত দুই দিনে এই দেশগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মার্কিন কর্মকর্তাদের ফোন করে এই বার্তা দিয়েছেন। তারা মার্কিন পক্ষকে জানিয়েছেন যে, আমেরিকার একটি হামলা পুরো অঞ্চলে একটি বড় ধরনের সংঘাতের সূত্রপাত করতে পারে।

একই সাথে, এই চারটি আরব দেশ ইরানকেও বার্তা দিচ্ছে যেন যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালেও ইরান এই অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর পাল্টা আক্রমণ না করে। ওই কর্মকর্তা জানান, এই দেশগুলো ওয়াশিংটন এবং তেহরান—উভয় পক্ষের সাথেই সমন্বিতভাবে যোগাযোগ রক্ষা করছে। অঞ্চলের দুজন কূটনীতিকও নিশ্চিত করেছেন যে, বেশ কয়েকটি আরব দেশ ট্রাম্প প্রশাসনকে হামলা না করার জন্য চাপ দিচ্ছে।

"আমরা সংলাপে বিশ্বাসী এবং আমরা বিশ্বাস করি যে যেকোনো মতবিরোধ আলোচনার টেবিলে বসে সমাধান করা উচিত," রিয়াদে একটি খনিজ ফোরামে এ কথা বলেন সৌদি আরবের প্রতিমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের।

কূটনৈতিক তৎপরতা
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, মঙ্গলবার নেতানিয়াহু ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাথেও কথা বলেছেন। একই দিনে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টারা সামরিক বিকল্পগুলো পর্যালোচনার জন্য বৈঠকে বসেছিলেন।
হোয়াইট হাউসের বক্তব্য ও সামরিক প্রস্তুতি
এই সংবাদটি প্রথম প্রকাশের পর, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেন যে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কথা হয়েছে। তবে তিনি আলোচনার বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মিসেস লেভিট সাংবাদিকদের আরও বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা রিপোর্ট পেয়েছেন যে ইরান পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা স্থগিত রেখেছে—যা আগের দিন ট্রাম্পের করা মন্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি। তিনি সতর্ক করে বলেন:

"প্রেসিডেন্ট এবং তার টিম ইরানি সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে যে, যদি হত্যাকাণ্ড চলতে থাকে, তবে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।"

ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি
দুজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার মতে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বিভাগ পর্যবেক্ষণ করেছে যে ইরানে বিক্ষোভকারী হত্যার হার কমেছে। এর প্রধান কারণ হলো, ইরান সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন এবং দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া, যার ফলে গত রবিবার থেকে বিক্ষোভের আকার ছোট হয়ে এসেছে। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া এই সরকারবিরোধী আন্দোলন গত কয়েক দশকের মধ্যে ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরান বুধবার রাতে তাদের আকাশসীমা বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য বন্ধ করে দিলেও পরে তা পুনরায় খুলে দেয়।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই পেন্টাগন এই সুযোগে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠানোর কাজ দ্রুততর করছে।

আব্রাহাম লিঙ্কন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার: মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'আব্রাহাম লিঙ্কন' এবং এর সাথে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অভিমুখে রওনা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের মতে, এই পথ পাড়ি দিতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে।

যুদ্ধবিমান মোতায়েন: বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান (ফাইটার জেট), অ্যাটাক প্লেন এবং জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান খুব শীঘ্রই ইউরোপ থেকে এই অঞ্চলে পৌঁছাতে শুরু করবে।

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার: যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়, তবে ইরান পাল্টা আঘাত করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে পেন্টাগন কাতারের আল উদেইদ (Al Udeid) বিমান ঘাঁটির মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোকে সুরক্ষায় আরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও ইন্টারসেপ্টর মিসাইল পাঠাচ্ছে।
 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন