শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১:২৪, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২১:২৭, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতিনিধিত্বশীল ছবি: সংগৃহীত।
স্পেনের বামপন্থী সরকার মঙ্গলবার একটি বড় ঘোষণা দিয়েছে। তারা একটি ডিক্রির মাধ্যমে দেশটিতে বসবাসরত প্রায় ৫ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশে যখন অভিবাসন নিয়ে কড়া আইন করা হচ্ছে, স্পেন তখন এই ভিন্ন পথ বেছে নিল।
অভিবাসন মন্ত্রী এলমা সাইজ জানিয়েছেন, এই সুবিধার আওতায় আসা ব্যক্তিরা স্পেনের যেকোনো জায়গায় এবং যেকোনো পেশায় কাজ করতে পারবেন। তিনি অভিবাসনের ইতিবাচক প্রভাবের ওপর জোর দিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে প্রায় ৫ লাখ মানুষ উপকৃত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, খবর রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনালের।
সাইজের মতে, এই মডেলটি মানবাধিকার, সামাজিক একতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
এই সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। যারা অন্তত পাঁচ মাস ধরে স্পেনে বাস করছেন এবং ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫-এর আগে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছেন, তারা এর আওতায় পড়বেন। আবেদনকারীর কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা চলবে না এবং তাদের স্পেনে বসবাসরত সন্তানদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হয়ে জুন পর্যন্ত চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেহেতু এটি একটি ডিক্রি বা অধ্যাদেশ, তাই পার্লামেন্টে ভোটের প্রয়োজন হবে না, যেখানে বর্তমান সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।
তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে দেশটির ডানপন্থী ও উগ্র-ডানপন্থী দলগুলো। প্রধান বিরোধী দল পপুলার পার্টির নেতা আলবার্তো নুনিয়েজ ফেইজো একে একটি 'হাস্যকর' পরিকল্পনা বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এতে অবৈধ অভিবাসন আরও বাড়বে এবং সরকারি পরিষেবাগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ক্ষমতায় গেলে তিনি এই অভিবাসন নীতি পুরোপুরি বদলে দেবেন।
'সামাজিক ন্যায়বিচার'
স্পেন সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপকে 'সামাজিক ন্যায়বিচার এবং স্বীকৃতি' হিসেবে অভিহিত করে প্রশংসা করেছে স্প্যানিশ ক্যাথলিক চার্চসহ বিভিন্ন সংস্থা।
সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, স্পেনের কর্মশক্তির ঘাটতি পূরণ করতে এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে অভিবাসন অত্যন্ত জরুরি। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, পর্যাপ্ত কর্মক্ষম মানুষ না থাকলে ভবিষ্যতে পেনশন ব্যবস্থা এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র কাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সানচেজ আরও উল্লেখ করেন যে, গত ছয় বছরে স্পেনের গতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ৮০ শতাংশই এসেছে অভিবাসীদের হাত ধরে। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষ প্রান্তিকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে যে ৭৬,২০০ জন অবদান রেখেছেন, তার মধ্যে ৫২,৫০০ জনই ছিলেন বিদেশি। এর ফলে স্পেনে বেকারত্বের হার ২০০৮ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক দেশ যখন উগ্র-ডানপন্থী দলগুলোর চাপে অভিবাসন নীতি কঠোর করছে, স্পেন তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং উদার অবস্থান নিয়েছে। থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক 'ফুঙ্কাস'-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারির শুরুতে স্পেনে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার অনথিভুক্ত অভিবাসী বসবাস করছিলেন, যাদের বেশিরভাগই লাতিন আমেরিকার নাগরিক।
দারিদ্র্য, সংঘাত এবং নির্যাতন থেকে বাঁচতে অভিবাসীদের জন্য স্পেন ইউরোপের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের কাছে অবস্থিত ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে প্রতি বছর হাজার হাজার সাব-সাহারা অঞ্চলের মানুষ এসে পৌঁছান। ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্পেনের ৪ কোটি ৯৪ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৭০ লাখের বেশি বিদেশি নাগরিক বর্তমানে সেখানে বসবাস করছেন।