শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯:১৫, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: জিনহুযার সৌজন্যে।
যুক্তরাষ্ট্রের তেল নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে কিউবা তাদের বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক চুরুট মেলা স্থগিত করেছে। গত শনিবার আয়োজক সংস্থা এই ঘোষণা দেয়। উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দ্বীপরাষ্ট্রটি ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের (Blackouts) মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, খবর ইউরো নিউজের।
মেলার আয়োজক সংস্থা কিউবান চুরুট বিক্রির বৈশ্বিক একচেটিয়া প্রতিষ্ঠান Habanos S.A.।
মেলাটি স্থগিতের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে ইভেন্টের উচ্চমান বজায় রাখা এবং বর্তমান জ্বালানি সংকট। বর্তমান অবস্থায় পেক্ষাপটে ২৬তম এই আসরের জন্য এখন পর্যন্ত নতুন কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
ইভেন্টের গুরুত্ব ও প্রভাব:
চুরুট মেলাটি বিশ্বজুড়ে তামাক প্রেমী এবং পরিবেশকদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। এখানে অংশগ্রহণকারীরা তামাক বাগান পরিদর্শন করেন, নিলামে অংশ নেন এবং কিউবান চুরুটের নিপুণ কারুকার্য সরাসরি দেখার সুযোগ পান।
গত বছর (২০২৫) এই মেলাটি একটি রেকর্ড সৃষ্টিকারী নিলামের মাধ্যমে শেষ হয়েছিল, যেখানে এক ব্যাচ বিশেষ হাতে তৈরি চুরুট ১৮ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। এছাড়া ওই বছর কোম্পানিটি রেকর্ড ৮২৭ মিলিয়ন ডলার বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছিল।
জৈব জ্বালানির এই অভাব কেবল চুরুট শিল্পেই নয়, বরং কিউবার পর্যটন খাতেও বড় ধাক্কা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে এবং পর্যটকদের অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে অনেক ট্রাভেল এজেন্সি তাদের কিউবা সফর বাতিল করছে। চুরুট মেলার পাশাপাশি একটি বই মেলাসহ বেশ কিছু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, যেসব দেশ কিউবার কাছে তেল বিক্রি করবে তাদের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করা হবে। কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারে বাধ্য করতে ওয়াশিংটন এই চাপ প্রয়োগ করছে।
বর্তমানে কিউবা তার মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬০% আমদানির ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ সময় ধরে দেশটি ভেনিজুয়েলা এবং মেক্সিকো থেকে তেল সরবরাহ পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই পথ এখন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।