শিরোনাম
পিটিআই
প্রকাশ: ০৯:৩৮, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৩৯, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বন্ধের কয়েক ঘন্টা পরে খুলে দেযা হয় টেক্সাসের এল পাসো আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর।
পেন্টাগন এবং ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)-কে একটি ড্রোন-বিরোধী লেজার ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল, যার ফলে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) টেক্সাসের এল পাসোর আকাশপথ হঠাৎ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। এই সংবেদনশীল তথ্যটি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন এই পরিস্থিতির সাথে জড়িত দুজন ব্যক্তি।
এই বিভ্রান্তিকর ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বুধবার, যখন এফএএ ঘোষণা করে যে তারা ইউএস-মেক্সিকো সীমান্তের এই শহরের আকাশপথ ১০ দিনের জন্য বন্ধ করে দিচ্ছে। এর ফলে অনেক যাত্রী আটকা পড়েন, যদিও শেষ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, মেক্সিকান কার্টেল ড্রোনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এফএএ এবং পেন্টাগন যৌথভাবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। দক্ষিণ সীমান্তে এ ধরনের ড্রোন অনুপ্রবেশ প্রায়ই ঘটে থাকে।
সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ফোর্ট ব্লিসের কাছে এই লেজারটি এফএএ-র সাথে কোনো সমন্বয় ছাড়াই মোতায়েন করা হয়েছিল। ফলে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এফএএ তাৎক্ষণিকভাবে আকাশপথ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য চলতি মাসের শেষের দিকে পেন্টাগন এবং এফএএ-র মধ্যে একটি বৈঠক নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও আগেই এই প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছে।
জেমিনাই যোগ করেছে: সমন্বয়ের অভাব এই ঘটনার সবচেয়ে বড় দিক হলো সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি। পেন্টাগন এবং এফএএ-র মধ্যে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে চলতি মাসেই একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই বৈঠকের আগেই ফোর্ট ব্লিসের কাছে লেজারটি মোতায়েন করা হয়। এফএএ যখন জানতে পারে যে তাদের অজান্তেই আকাশে বিপজ্জনক লেজার ব্যবহার করা হচ্ছে, তখন তারা যাত্রীবাহী বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সীমান্ত নিরাপত্তা বর্তমানে আমেরিকার একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু। প্রশাসন দ্রুত ফলাফল দেখাতে গিয়ে অনেক সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর (যেমন এফএএ) নিরাপত্তা প্রোটোকল এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, যার ফলে এল পাসোর মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
নিউিইয়র্ক টাইমস যোগ করেছে: এল পাসো বিমানবন্দর বন্ধের ঘটনাটি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতর থেকে আসা পরস্পরবিরোধী তথ্য একটি বড় ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, বিশেষ করে পরিবহন সচিব শন ডাফি এবং হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন যে, মেক্সিকান ড্রাগ কার্টেলের ড্রোন মার্কিন আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল। তাদের মতে, সেই অনুপ্রবেশকারী ড্রোনটিকে প্রতিহত বা 'নিউট্রালাইজ' করার জন্যই জরুরি ভিত্তিতে আকাশপথ বন্ধ করতে হয়েছিল।
প্রযুক্তি পরীক্ষার বিতর্ক
অন্যদিকে, প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে যে, এই বিশৃঙ্খলার আসল কারণ কোনো ড্রোন আক্রমণ নয়, বরং পেন্টাগন কর্তৃক একটি নতুন ড্রোন-বিরোধী প্রযুক্তি (Counter-drone technology) পরীক্ষা করা। এই প্রযুক্তিটি ব্যবহারের সময় বাণিজ্যিক বিমানের নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কায় এফএএ (FAA) দ্রুত বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য এবং স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনাটি নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে:
মেয়াদের বিভ্রান্তি: এফএএ প্রথমে কেন ১০ দিনের জন্য আকাশপথ বন্ধের ঘোষণা দিল এবং মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেন তা আবার খুলে দিল, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সমন্বয়হীনতা: স্থানীয় এবং রাজ্য পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে রীতিমতো অবাক হয়েছিলেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: এল পাসোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ভেরোনিকা এসকোবার সরাসরি প্রশাসনের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, কংগ্রেসকে দেওয়া তথ্যের সাথে প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিংয়ের কোনো মিল নেই। তার মতে, যদি আসলেই বড় কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকতো, তবে এফএএ এত দ্রুত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিত না।