শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ২০:৫৩, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার ইউরোপীয় মিত্রদের আশ্বস্ত করে বার্তা দিয়েছেন। ছবি: ডেইলী সাবাহ-এর সৌজন্যে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার ইউরোপীয় মিত্রদের একটি আশ্বস্ত করে বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক জোটকে পুনরুজ্জীবিত করতে চায় যাতে ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী ‘পুনজাগরণ’ অভিযানে সহায়তা করতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বছরেরও বেশি সময়ের কঠোর অবস্থানের পর রুবিও এই ইতিবাচক বার্তা দিলেন।
গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি এবং মিত্রদের প্রতি বিদ্রূপাত্মক মন্তব্যের ফলে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে রুবিও বেশ নরম সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন, "আমরা বিচ্ছিন্ন হতে চাই না, বরং একটি পুরনো বন্ধুত্বকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং মানব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সভ্যতাকে নতুন রূপ দিতে চাই।" একটি "শক্তিশালী জোটের" আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "আমরা চাই ইউরোপ শক্তিশালী হোক। ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ।"
তবে অভিবাসন ইস্যুতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের আগের অবস্থানের প্রতিধ্বনি করেন। তিনি বলেন, "গণ-অভিবাসন" একটি সংকট যা পশ্চিমা সমাজগুলোকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। তার মতে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র একই মহান সভ্যতার উত্তরাধিকারী এবং তিনি আশা করেন ইউরোপ এই সভ্যতা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে।
সুরে পরিবর্তন
অভিবাসন প্রসঙ্গ ছাড়া রুবিও অন্যান্য বিতর্কিত সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক ইস্যুগুলো এড়িয়ে গেছেন। অথচ আগের দিনই জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ সতর্ক করেছিলেন যে, এসব ইস্যু যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে ফাটল আরও গভীর করছে।
রুবিওর এই ভাষণ গত বছরের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভাষণের ঠিক উল্টো। ভ্যান্স সে সময় একই মঞ্চ থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোর বাকস্বাধীনতা ও বিভিন্ন নীতির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন, যা মিত্রদের স্তম্ভিত করেছিল।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ইউরোপের "সভ্যতার পতন" নিয়ে সমালোচনা এবং ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির কারণে দুই পক্ষের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অনড় অবস্থানের মুখে ইউরোপীয় দেশগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে রুবিওর বক্তব্যের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হ্যানো পেভকুর বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, "আমরা যে এখনও মিত্র ও অংশীদার, তা দেখানোর জন্য এই বক্তব্যটি প্রয়োজন ছিল।" তবে লিথুয়ানিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্যাব্রিলিয়াস ল্যান্ডসবার্গিস একে নিছক কৌশলী পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। তিনি মন্তব্য করেন, "এটি কেবল আরও মার্জিত ভাষায় পরিবেশন করা হয়েছে। আমি নিশ্চিত নই যে এই প্রলেপ কতদিন টিকবে।"
ইউরোপের নিরাপত্তা
সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতারা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয়ে নিজেদের দায়ভার বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন, যা রাশিয়ার বৈরিতা মোকাবিলায় অপরিহার্য বলে তারা মনে করেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেন, "ইউরোপকে এখন এগিয়ে আসতে হবে এবং নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে।" তিনি ব্রেক্সিটের ১০ বছর পর ব্রিটেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপরও জোর দেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও একই সুর মিলিয়ে বলেন, "আমাদের কঠোর শক্তি (hard power) বৃদ্ধি করতে হবে, কারণ এটাই বর্তমান সময়ের দাবি।" তিনি ইউরোপ জুড়ে একটি যৌথ শিল্প ভিত্তি তৈরির আহ্বান জানান যা প্রতিরক্ষা উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করবে।
ইউক্রেন যুদ্ধ
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাঁচ বছরে পদার্পণের ঠিক আগেই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধ বন্ধে রাজনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো কাজে আসছে না। তিনি বলেন, "রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের চেয়ে অস্ত্র দ্রুত বিকশিত হচ্ছে।" জেলেনস্কি দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের দাবি জানিয়ে সতর্ক করেন যে, পুতিন কেবল ইউক্রেন নয়, অন্য ইউরোপীয় দেশগুলোকেও ছাড়বেন না কারণ তিনি যুদ্ধের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না।
এদিকে, গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প কিয়েভকে যুদ্ধ শেষ করার জন্য "তৎপর" হওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প বলেন, "রাশিয়া একটি চুক্তি করতে চায়... তাকে (জেলেনস্কিকে) দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।" তবে রুবিও শনিবার কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, "আমরা জানি না রাশিয়ানরা যুদ্ধ বন্ধের ব্যাপারে আদৌ সিরিয়াস কি না।" পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘকে আক্রমণ করে বলেন, ইউক্রেন বা গাজার মতো সংকটে সংস্থাটির কোনো ভূমিকা নেই।