শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২:১৮, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছেবি: ডেইলী টাইমস্ (পাকিস্তান)-এর সৌজন্যে।
জার্মানীর মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে তারা সংলাপ জোরদার এবং চীন-মার্কিন সম্পর্কের স্থিতিশীল উন্নয়নে একমত হয়েছেন।
ওয়াং ই উল্লেখ করেন যে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, খবর ডেইলী টাইমসের। দুই নেতার মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাগুলো বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ২০২৬ সাল হবে বিশ্বের এই বৃহত্তম দুই অর্থনীতির মধ্যে "পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সহযোগিতার" একটি বছর।
ওয়াং বলেন, "সংঘাতের চেয়ে সংলাপ ভালো, বিরোধের চেয়ে সহযোগিতা উত্তম এবং জিরো-সাম গেম বা একজনের হার অন্যজনের জয়ের চেয়ে উভয়ের জন্য কল্যাণকর ফলাফল অনেক বেশি ফলপ্রসূ।" তিনি বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আগামী এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে, যা হবে তার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম চীন সফর। পর্যবেক্ষকদের মতে, বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে কয়েক মাসের উত্তেজনার পর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টাই ওয়াং ও রুবিওর এই সংলাপে প্রতিফলিত হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প ও শি ফোনে কথা বলেন, যা গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের সরাসরি বৈঠকের ধারাবাহিকতা ছিল। ওই শীর্ষ সম্মেলনে শি তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, যা দীর্ঘকাল ধরে দুই দেশের সম্পর্কের একটি সংবেদনশীল ইস্যু।
রুবিও এবং ওয়াং অর্থনৈতিক বিনিময়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছেন, যা সংঘাত থেকে সরে এসে সংলাপ ও সহযোগিতার দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় উভয় পক্ষই সংঘাত এড়িয়ে চলতে এবং সংকট ব্যবস্থাপনার পথ খোলা রাখতে আগ্রহী।
মিউনিখের এই বৈঠকটি একটি সতর্ক আশাবাদের বার্তা দিচ্ছে যে, অতীত তিক্ততা সত্ত্বেও চীন ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছরগুলোতে তাদের সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতার পথে এগিয়ে যেতে পারে।