শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯:২৯, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত।
সাধারণত যখন আপনি শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনে চড়ার পরিকল্পনা করেন, তখন আপনাকে সংরক্ষিত বা অসংরক্ষিত আসনের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হয়। তবে এই মাসে পূর্ব জাপান রেলওয়ে কোম্পানি (জেআর ইস্ট) তাদের প্রথম বুলেট ট্রেনটি প্রদর্শন করেছে যাতে কোনো আসনই নেই।
ট্রেনটিতে শুধু যে আসন নেই তা নয়, আরও কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্যেরও অভাব রয়েছে। এর বগির ভেতরে প্রথাগত কোনো পার্শ্ব-জানালা নেই। শুনতে এটি বেশ রুক্ষ বা জরাজীর্ণ মনে হলেও ট্রেনের কর্মীদের কোনো অভিযোগ শোনার সম্ভাবনা নেই, কারণ এতে কোনো যাত্রীও থাকবে না, খবর জাপান টু’ডের।
এর কারণ হলো এটি জাপানের প্রথম সম্পূর্ণ মালবাহী শিনকানসেন। এটি মূলত দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হবে, যেখানে পর্যটন বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে ভ্রমণকারী যাত্রীদের জন্য কোনো বগি থাকবে না। এই আসনবিহীন শিনকানসেনের সাতটি বগিতে এক সময় যাত্রী পরিবহন করা হতো। তবে এখন সব আসন সরিয়ে এবং মেঝেতে বিশেষ ধরনের পিচ্ছিলরোধী আস্তরণ বসিয়ে সেগুলোকে নতুন কাজের উপযোগী করা হয়েছে, যাতে যাতায়াতের সময় মালামাল বা বক্সগুলো পিছলে না যায়।
পরিবহন করা পণ্যের বেশিরভাগই হবে তাজা খাদ্যদ্রব্য যেমন মাছ ও শাকসবজি এবং সূক্ষ্ম ইলেকট্রনিক বা যান্ত্রিক যন্ত্রপাতি। এই ধরণের পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত ডেলিভারি এবং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নাড়াচাড়া করা জরুরি। যেহেতু ট্রেনে কোনো যাত্রী থাকবে না যারা বাইরের দৃশ্য দেখতে চাইবেন, তাই জানলাগুলো ঢেকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে যে অঞ্চলের ওপর দিয়ে ট্রেনটি যাবে, সেই অঞ্চলের বিভিন্ন পণ্যের ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এটি যেমন স্থানীয় ঐতিহ্যের পরিচয় দেয়, তেমনি কার্গো এলাকায় অতিরিক্ত আলো ও তাপ প্রবেশ রোধ করতেও সাহায্য করে।
এই আসনবিহীন শিনকানসেন মূলত জেআর-এর 'হাকোব্যুন শিনকানসেন' শিপিং সার্ভিসের একটি অংশ। জাপানে বর্তমানে দক্ষ ট্রাক চালকের অভাব থাকায় লজিস্টিক এবং সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জেআর সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে। মালামাল আনা-নেওয়ার জন্য কোম্পানিটি স্বয়ংক্রিয় কার্ট বা ট্রলি ব্যবহার করছে, যাতে কম জনবল দিয়েও বিশাল পরিমাণ পণ্য সামলানো যায়।
যদিও হাকোব্যুন সেবাটি মূলত বিভিন্ন ব্যবসার কথা মাথায় রেখে তৈরি, তবে সাধারণ ব্যক্তিরাও এই সুবিধা নিতে পারবেন। স্টেশনে পণ্য পৌঁছানোর পর জেআর ইস্ট সেগুলো গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরবর্তী পরিবহনের ব্যবস্থাও করে দিতে পারবে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি এটি প্রথমবারের মতো জনসাধারণের সামনে আনা হলেও, আগামী ২৩ মার্চ থেকে ট্রেনটি পূর্ণাঙ্গ সেবা শুরু করবে। এটি সপ্তাহের কর্মদিবসগুলোতে দিনে একবার ইওয়াতে প্রিফেকচারের মোরিওকা থেকে টোকিও পর্যন্ত যাতায়াত করবে।