শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১:২৪, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শুক্রবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অফ দ্য পিপলে চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন। ছবি: এনপিআর-এর সৌজন্যে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা বাণিজ্যিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে কানাডা এবং চীন একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। কানাডা চীনের তৈরি ইলেকট্রিক ভেহিকেলের (EV) ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছে। এর বিনিময়ে চীনও কানাডীয় কৃষিপণ্যের ওপর তাদের আরোপিত বাড়তি শুল্ক তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, খবর ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও’র।
কানাডার অবস্থান ও পরিবর্তন: গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কানাডা চীনা ইভি আমদানির ওপর ১০০% শুল্ক আরোপ করেছিল। কানাডার সরকারের যুক্তি ছিল যে, চীন তাদের অটোমোবাইল শিল্পে অন্যায়ভাবে ভর্তুকি দিয়ে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট করছে। তবে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং বিশেষ করে কৃষিখাতের ক্ষতির আশঙ্কায় কানাডা এই অবস্থান থেকে কিছুটা নমনীয় হয়েছে। নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, এই শুল্কের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হবে, যার ফলে কানাডার বাজারে চীনা ইলেকট্রিক গাড়ি আরও সহজলভ্য হওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।
চীনের পদক্ষেপ ও কৃষিখাতে স্বস্তি: কানাডার ইভি শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় চীন কানাডীয় ক্যানোলা (canola) এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য আমদানির ওপর তদন্ত ও বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিল। চীনের এই সিদ্ধান্ত কানাডার কৃষকদের জন্য বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কারণ চীন কানাডীয় ক্যানোলার অন্যতম বড় বাজার। নতুন চুক্তির ফলে চীন এখন কানাডীয় কৃষি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা কানাডার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চীনা নেতাদের সাথে দুই দিনের বৈঠকের পর কার্নি এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, কানাডায় চীনা ইভি রপ্তানির প্রাথমিক সীমা ৪৯,০০০ গাড়ি থাকবে, যা পাঁচ বছরে ৭০,০০০-এ উন্নীত হবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, চীন কানাডার একটি প্রধান রপ্তানিকারক দেশ ক্যানোলা বীজের উপর তার শুল্ক প্রায় ৮৪% থেকে কমিয়ে প্রায় ১৫% করবে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব: বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাবর্তন এবং সম্ভাব্য বৈশ্বিক বাণিজ্যিক যুদ্ধের আশঙ্কায় কানাডা তার বাণিজ্যে বহুমুখীকরণ ও ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা এবং অন্যদিকে চীনের মতো বৃহৎ বাজারের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করা—কানাডার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমঝোতা প্রমাণ করে যে, বাণিজ্য যুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক।
কানাডা ও চীনের এই 'গিভ অ্যান্ড টেক' নীতি বিশ্ববাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দিচ্ছে। যদিও জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে, তবুও কৃষিখাত এবং সাশ্রয়ী পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি (EV) আমদানির ক্ষেত্রে এই সমঝোতা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।